আপডেট

x


চিটাগংয়ের প্রথম জয়; রংপুরের প্রথম হার

বুধবার, ০৮ নভেম্বর ২০১৭ | ১১:৫৭ অপরাহ্ণ | 1190 বার

চিটাগংয়ের প্রথম জয়; রংপুরের প্রথম হার

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টুয়েন্টি টুয়েন্টি ক্রিকেটের পঞ্চম আসরে প্রথম জয়ের মুখ দেখলো চিটাগং ভাইকিংস। চলতি টুর্নামেন্টের সপ্তম ও নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে চিটাগং ১১ রানে হারায় মাশরাফির রংপুর রাইডার্সকে। পক্ষান্তরে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে প্রথম হারের স্বাদ পেলো রংপুর।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে চিটাগংকে ব্যাটিং-এ আমন্ত্রণ জানায় রংপুর রাইডার্সের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। শুরুতে ব্যাটিং-এ নেমে রংপুর বোলারদের উপর মারমুখি মেজাজ ধারণ করেন উইকেটরক্ষক নিউজিল্যান্ডের লুক রঞ্চি। মাশরাফির করা প্রথম ওভার থেকে দু’টি ছক্কায় ১২ রান তুলে নেন রঞ্চি।
দ্বিতীয় ওভারে সোহাগ গাজীর ওভার থেকে তিনটি বাউন্ডারি তুলে নেন রঞ্চি। এরপর তৃতীয় ওভারে নাজমুল ইসলামের ওভার থেকে ৩টি ছক্কা ও এক বাউন্ডারি হাঁকান রঞ্চি। তাতে ৩ ওভার শেষে বিনা উইকেটে চিটাগং-এর রান অর্ধশতক স্পর্শ করে। বিপিএলের ইতিহাসে দ্রুত ৫০ রান করা দল হিসেবে নাম লেখায় চিটাগং। এ সময় রঞ্চির রান ছিল ১৬ বলে ৪৮ ও আরেক ওপেনার সৌম্যর রান ছিল ২।



ইনিংসের চতুর্থ ওভারের পঞ্চম বলে ১ রান নিয়ে নিজের হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন রঞ্চি। মাত্র ১৯ বলে হাফ-সেঞ্চুরি পান এই ডান-হাতি ব্যাটসম্যান। বিপিএলের ইতিহাসে এটি তৃতীয় দ্রুত হাফ-সেঞ্চুরি।
রঞ্চির হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ হবার পরের ওভারেই আউট হয়ে যান সৌম্য। রংপুর অধিনায়ক মাশরাফির শিকার হন তিনি। করেন ৭ বলে ৭ রান।
সৌম্যর বিদায়ের ক্রিজে রঞ্চির সঙ্গী হন শ্রীলংকার দিলশান মুনাবীরা। দ্বিতীয় উইকেটেও রানের চাকা সচল রেখেছিলেন তারা। ফলে ৬ ওভারেই ৬৯ রান পেয়ে যায় রংপুর। এমন অবস্থায় বড় স্কোরের স্বপ্নে বিভোর ছিলো চিটাগং।

কিন্তু ১০ দশমিক ২ ওভারে দলীয় ৯৯ রানে রঞ্চি ও ১১৩ রানে মুনাবীরাকে তুলে নিয়ে চিটাগং-এর রানের লাগাম টেনে ধরার পথ তৈরি করেন রংপুরের ইংলিশ খেলোয়াড় রবি বোপারা। ৭টি করে চার ও ছক্কায় মাত্র ৩৫ বলে ৭৮ রান করেন রঞ্চি। ১৭ বলে ২০ রান করে আউট হন মুনাবীরা।
রঞ্চি ও মুনাবীরার আউটের পর শেষের ৫৮ বল থেকে মাত্র ৫৩ রান যোগ করতে পারে চিটাগং। এ জন্য বাহ্বা পাওয়ার যোগ্য রংপুরের বোলাররা। বিশেষভাবে রংপুরের মালিঙ্গা। স্লগ ওভারে ২ ওভারে মাত্র ১২ রান দিয়েছেন তিনি। শেষ দিকে চিটাগং-এর মিসবাহ উল হক ৩২ বলে অপরাজিত ৩১ ও আনামুল হক ১৪ বলে অপরাজিত ১৭ রান করেন। রংপুরের বোপারা ২টি উইকেট নেন।
১৬৭ রানের জয়ের লক্ষ্যে শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি রংপুরের। প্রথম ওভারের তৃতীয় বলেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের জনসন চালর্সকে হারায় তারা। ১ রান করে ফিরেন তিনি। এরপর প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দেয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন মেইকশিপ্ট ওপেনার জিয়াউর রহমান ও উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ মিথুন। জুটিতে ১৮ রান যোগ করেন তারা। ৪ বলে ১১ রান করে থামেন জিয়াউর।
২০ রানে ২ উইকেট হারানোর পর মিডল-অর্ডারে দলের হাল ধরেন মিথুন, ইংল্যান্ডের রবি বোপারা ও শাহরিয়ার নাফীস। তিন জনের ছোট ছোট ইনিংসের কল্যাণে ১২ ওভারেই শতরান পেয়ে যায় রংপুর।

তবে ১৩তম ওভারের চতুর্থ ও পঞ্চম বলে পরপর দু’টি উইকেট তুলে নিয়ে চিটাগংকে চালকের আসনে বসিয়ে দেন পেসার তাসকিন আহমেদ। নাফীসকে ২৬ ও আফগানিস্তানের সামিউল্লাহ সেনেওয়ারিকে ০ শুন্য রানে শিকার করেন তিনি। নিজে দুই উইকেট নেয়ার পর ওই ওভারের শেষ বলে দুর্দান্ত দক্ষতায় উইকেটে সেট হয়ে যাওয়া বোপারাকে রান আউটের ফাঁদে ফেলেন তাসকিন। ৩২ বলে ৩৮ রান করেন বোপারা।
১০৫ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়া রংপুর। পরবর্তীতে আর ঘুড়ে দাঁড়াতে পারেনি তারা। শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ১৫৫ রান করতে পারে রংপুর। চিটাগং-এর তাসকিন ৩১ রানে ৩ উইকেট নেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :
চিটাগং ভাইকিংস : ১৬৬/৪, ২০ ওভার (রঞ্চি ৭৮, মিসবাহ ৩১*, বোপারা ২/১৪)।
রংপুর রাইডার্স : ১৫৫/৮, ২০ ওভার (বোপারা ৩৮, নাফীস ২৬, তাসকিন ৩/৩১)।
ফল : চিটাগং ভাইকিংস ১১ রানে জয়ী।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments


deshdiganto.com © 2019 কপিরাইট এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত

design and development by : http://webnewsdesign.com