ঢাকা , রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কুলাউড়া ফুটবল প্রেমীদের হৃদয়ে আজো বেঁচে আছেন ক্রীড়াঙ্গনের বরপুত্র নিজাম ভাই

আহসানুজ্জামান রাসেল
  • আপডেটের সময় : ০৬:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২০
  • / ৪৬৬ টাইম ভিউ

 

২০১৭ সালের ১৩ই নভেম্বর কুলাউড়ার ক্রীড়াঙ্গনের জন্য ছিলো একটা কালো এবং শোক গাঁথা দিন। কারন এই দিনেই পরপারে চলে গিয়েছিলেন সত্তর দশকের শুরু থেকে আশির দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত কুলাউড়ার মাঠ কাঁপানো অত্যন্ত পরিশ্রমী এবং সর্বজন শ্রদ্ধেয় একজন ফুটবলার যাকে কুলাউড়ার ফুটবলের বরপুত্র বলা হয়, যার ফুটবল শৈলী দেখে কুলাউড়া এনসি স্কুল মাঠের হাজার হাজার দর্শক করতালিতে মুখরিত করতো মাঠ, যিনি উনার সময়ে কুলাউড়া তথা মৌলভীবাজারের অন্যতম সেরা ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় ছিলেন। বলছিলাম নিজামুল ইসলাম নিজামের কথা যিনি ভালো ফুটবলারের পাশাপাশি একজন ভালো মনের মানুষ ছিলেন কিন্তু বড় অসময়ে সবাইকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন এবং উনার বিকল্প একজন নিজাম তৈরি করা কুলাউড়ায় এখন পর্যন্ত সম্ভব হয়নি।

নিজাম ভাইর বাবা বাংলাদেশ রেলওয়ের সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। ছয় ভাইয়ের মধ্যে নিজাম ভাই ছিলেন চতুর্থ। খেলোয়াড়ী জীবনের হাতেখড়ি নবীন চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের হয়ে। উনি সত্তর দশকের প্রথম দিকে কুলাউড়া দক্ষিণ বাজার এবং মাগুরা এলাকায় সফলভাবে পরিচালিত ‘বালক সংঘের’ সদস্য ছিলেন। পরবর্তীতে ‘নজরুল সেনা’ হয়ে জাতীয় তরুন সংঘের সদস্য হন আশি সনের দিকে। উনার একসময়ের সতীর্থ জাতীয় তরুন সংঘে নিবেদিত প্রাণ Abdul Hye Montu বলেন, “নিজাম খুবই উচুমানের এবং পরিশ্রমী একজন ফুটবলার ছিলো। আমরা একসাথে ১৯৮০ সালে এনসি স্কুলের পক্ষে মৌলভীবাজার মহকুমা চ্যাম্পিয়ন হয়ে সিলেট স্টেডিয়ামে খেলতে যাই। যদিও সিলেটে গোলযোগের কারনে ফাইনাল খেলা সমাপ্ত হয়নি এবং ম্যাচ পরবর্তী সংঘর্ষে আহত হয় প্রয়াত মিকি ভাইর ছোট ভাই সোহাগ। এছাড়াও একবার ভুকশিমইল মাঠে কামরুল ভাইর টীমে খেলতে গিয়ে নিজাম প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডার প্রয়াত দেওলার রাফ ট্যাকলের শিকার হচ্ছিল বার বার। দেওলা এবং নিজামের ঐদিনের লড়াইটা ছিলো অনেকটা দেখার মতো।”

নিজাম ভাই ভালো খেলোয়াড়ের পাশাপাশি একজন দক্ষ খেলোয়াড় গড়ার কারিগরও ছিলেন। উনার শিষ্য Kabul Pal এর মুখে শুনুন ” আমার ফুটবলের গুরু নিজাম ভাই যাকে বলা হতো গোল মেশিন, স্কুল টিমের খেলায় ডাবল হ্যাটট্রিক সহ সাতটি গোলের রেকর্ড আছে। উনার মতো এতো বেশী সময় দম ধরে রাখতে পারা খেলোয়াড় আমি আর দেখেনি। আর কাঁদার মাঠ হলেতো আর কোন কথাই নেই সব খেলোয়াড়দের দম ফেইল এই সুয়োগে পুরো মাঠ জুড়ে যেখান বল সেখানে নিজাম ভাই। সকাল বিকাল কোন সময় অনুশীলন বাদ দিতেন না। উনি একজন অভিভাবক হিসেবে সব সময় চিন্তা করতেন কুলাউড়ার খেলোয়াড়েরা কিভাবে খেলায় উন্নতি করতে পারে এবং ব্যক্তিগতভাবে আমাকে খুব স্নেহ করতেন। উনি বৃহত্তর সিলেটের বিভিন্ন মাঠে খেলে কুলাউড়া উপজেলার জন্য সুনাম কুড়িয়েছেন। ভালো খেলার পাশাপাশি উনি ছিলেন ফুটবল খেলোয়াড় গড়ার কারিগর এবং খুব মজার ও চঞ্চল টাইপের মানুষ। কোন বাসায় গাছের ডাব, নারিকেল, কলা, আখ ধরেছে এটা উনার চোখে পড়ে গেলে যেভাবেই হোক তা খেতে হবে, প্রয়োজনে চুরি করে সবাইকে নিয়ে খেতেন। নিজাম ভাই যে মানের খেলোয়াড় ছিলেন ঢাকা লিখে খেলা কোন ব্যাপার ছিলোনা। কিন্তু উনি ঢাকা না গিয়ে কোন দরকার ছাড়া চলে গেলেন ইরানে। আর তখনই শেষ হয়ে গেল আমাদের ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে জনপ্রিয় মানুষ আমার গুরু নিজাম ভাইয়ের খেলার ইতি। আজ গুরু আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন না ফেরার দেশে। কুলাউড়া উপজেলার সকল সাবেক ও বর্তমান প্রজন্মের খেলোয়াড়দের পক্ষ থেকে উনার বিদেহী আত্মা শান্তি কামনা করি।”

ফুটবল মাঠে নিজাম ভাইর আরেকটা বড় গুন ছিলো নিজে খেলার থেকে অন্যকে দিয়ে খেলানোর চেষ্টা বেশী করতেন। খেলার মাঠের উনার আরেক সতীর্থ Mothiur Rahman এর ভাষায়, “নিজাম ভাই খুবই ভালো মানের ফুটবল খেলতো। উনার হঠাৎ মৃত্যু এখনো মনে হলে খারাপ লাগে। ফুটবল মাঠে উনার বিচরণ রাজার মতো ছিল। উনার সাথে অনেক ফুটবল টুর্নামেন্টে খেলেছি। উনি খুব সুন্দর বল যোগান দিতেন।” ফুটবলের পাশাপাশি উনি ব্যাডমিন্টনে কুলাউড়ার সেরা এমনকি অনেকের মতে কুলাউড়ার ইতিহাসের সেরা প্লেয়ার ছিলেন। উনার অনুজ সতীর্থ Emadul Choudhury তারহাম সৃত্মিচারণে বলেন, “আশির দশকে কুলাউড়া একাদশের নিয়মিত খেলোয়াড় ছিলেন নিজাম ভাই। কুলাউড়ার ফুটবলে খলিল ভাইর পরেই উনার স্থান। মৌলভীবাজার এবং সিলেটে লীগ সহ বিভিন্ন মাঠে দাপটের সাথে ফুটবল খেলেছেন। খুবই ভালো ব্যাডমিন্টন খেলতেন। কুলাউড়ায় উনার মতো একজন ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় এখনো আসেনি। রেলওয়ে মাঠে বিধুশিংকে সাথে নিয়ে শমশেরনগর এর উল্লাশির সাথে ব্যাডমিন্টন ফাইনাল খেলাটি এখনো পর্যন্ত কুলাউড়ার মাঠে আমার দেখা একটি সেরা খেলা ছিল।”

আসলে নিজাম ভাইকে নিয়ে লেখা শেষ হবার নয়।উনাকে নিয়ে রিপোর্ট করতে গিয়ে আমি উনার সতীর্থদের কাছ থেকে যে পরিমান সারা পেয়েছি তা সত্যিই আমাকে অবাক করেছে। আমেরিকা প্রবাসী উনার বাল্য বন্ধু Arif Ahmed আফসার অনেকটা আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “It is my privilege and honored that today I am remembering about someone whose contributions in our kulaura’s sports undoubtedly remarkable . The history is incomplete without him . My dearest friend whom we lost so early. Non other then our beloved late Nizamul islam Nizam. I m becoming emotional to remember something about him. In one word he is all square. I am so lucky that he was my close friend. Uncounted memories with him in our childhood knock me always. May Allah grant him jannatul ferdous.”

পরিশেষে কুলাউড়ার সকল নিজাম প্রেমী ফুটবল ভক্তদের পক্ষ থেকে আমি একটা আবদার রাখতে চাই স্থানীয় পর্যায়ে খেলাধুলার অভিভাবক সংগঠন উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা এবং বিপ্লব সৃষ্টিকারী সংগঠন কুলাউড়া খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতির কাছে। যে মাটির সাথে নিজাম ভাইর রক্তের বন্ধন, যে মাটির সাথে নিজাম ভাইর অাবেগ আর ভালোবাসা জড়িয়ে আছে, যে মাটির গন্ধ শুকলে নিজাম ভাইর শরীরের ঘামের গন্ধ পাওয়া যাবে, যে মাটির দর্শকরা নিজাম ভাইর ফুটবল শৈলী দেখে আন্দোলিত হতো, যে মাটি নিজাম ভাইর মতো আরেকজন ফুটবলার পাবার জন্য হাহাকার করে সেই মাটি কুলাউড়া এনসি হাই স্কুল মাঠে নিজাম ভাইর নামে একটা ফুটবল টূর্ণামেন্টের আয়োজন করেন আপনারা। আমার বিশ্বাস নিজাম ভাইর নামে টূর্ণামেন্ট করলে উক্ত টূর্ণামেন্টের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে এগিয়ে আসবেন দেশ বিদেশী অবস্থানকারী উনার সোনালী প্রজন্মের সতীর্থরা এবং সর্বোপরী এধরণের কিছু করলে উনার অাত্মা কিছুটা হলেও শান্তি পাবে। আজকে এই পবিত্র ঈদুল আযহার দিনে দোয়া করছি আল্লাহ যেনো উনার সব গুনাহ মাফ করে দিয়ে উনাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করেন।

সংগৃহিত- কুলাউড়া ফুটবলের ইতিহাস ও ঐতিহ্য হ

পোস্ট শেয়ার করুন

কুলাউড়া ফুটবল প্রেমীদের হৃদয়ে আজো বেঁচে আছেন ক্রীড়াঙ্গনের বরপুত্র নিজাম ভাই

আপডেটের সময় : ০৬:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২০

 

২০১৭ সালের ১৩ই নভেম্বর কুলাউড়ার ক্রীড়াঙ্গনের জন্য ছিলো একটা কালো এবং শোক গাঁথা দিন। কারন এই দিনেই পরপারে চলে গিয়েছিলেন সত্তর দশকের শুরু থেকে আশির দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত কুলাউড়ার মাঠ কাঁপানো অত্যন্ত পরিশ্রমী এবং সর্বজন শ্রদ্ধেয় একজন ফুটবলার যাকে কুলাউড়ার ফুটবলের বরপুত্র বলা হয়, যার ফুটবল শৈলী দেখে কুলাউড়া এনসি স্কুল মাঠের হাজার হাজার দর্শক করতালিতে মুখরিত করতো মাঠ, যিনি উনার সময়ে কুলাউড়া তথা মৌলভীবাজারের অন্যতম সেরা ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় ছিলেন। বলছিলাম নিজামুল ইসলাম নিজামের কথা যিনি ভালো ফুটবলারের পাশাপাশি একজন ভালো মনের মানুষ ছিলেন কিন্তু বড় অসময়ে সবাইকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন এবং উনার বিকল্প একজন নিজাম তৈরি করা কুলাউড়ায় এখন পর্যন্ত সম্ভব হয়নি।

নিজাম ভাইর বাবা বাংলাদেশ রেলওয়ের সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। ছয় ভাইয়ের মধ্যে নিজাম ভাই ছিলেন চতুর্থ। খেলোয়াড়ী জীবনের হাতেখড়ি নবীন চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের হয়ে। উনি সত্তর দশকের প্রথম দিকে কুলাউড়া দক্ষিণ বাজার এবং মাগুরা এলাকায় সফলভাবে পরিচালিত ‘বালক সংঘের’ সদস্য ছিলেন। পরবর্তীতে ‘নজরুল সেনা’ হয়ে জাতীয় তরুন সংঘের সদস্য হন আশি সনের দিকে। উনার একসময়ের সতীর্থ জাতীয় তরুন সংঘে নিবেদিত প্রাণ Abdul Hye Montu বলেন, “নিজাম খুবই উচুমানের এবং পরিশ্রমী একজন ফুটবলার ছিলো। আমরা একসাথে ১৯৮০ সালে এনসি স্কুলের পক্ষে মৌলভীবাজার মহকুমা চ্যাম্পিয়ন হয়ে সিলেট স্টেডিয়ামে খেলতে যাই। যদিও সিলেটে গোলযোগের কারনে ফাইনাল খেলা সমাপ্ত হয়নি এবং ম্যাচ পরবর্তী সংঘর্ষে আহত হয় প্রয়াত মিকি ভাইর ছোট ভাই সোহাগ। এছাড়াও একবার ভুকশিমইল মাঠে কামরুল ভাইর টীমে খেলতে গিয়ে নিজাম প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডার প্রয়াত দেওলার রাফ ট্যাকলের শিকার হচ্ছিল বার বার। দেওলা এবং নিজামের ঐদিনের লড়াইটা ছিলো অনেকটা দেখার মতো।”

নিজাম ভাই ভালো খেলোয়াড়ের পাশাপাশি একজন দক্ষ খেলোয়াড় গড়ার কারিগরও ছিলেন। উনার শিষ্য Kabul Pal এর মুখে শুনুন ” আমার ফুটবলের গুরু নিজাম ভাই যাকে বলা হতো গোল মেশিন, স্কুল টিমের খেলায় ডাবল হ্যাটট্রিক সহ সাতটি গোলের রেকর্ড আছে। উনার মতো এতো বেশী সময় দম ধরে রাখতে পারা খেলোয়াড় আমি আর দেখেনি। আর কাঁদার মাঠ হলেতো আর কোন কথাই নেই সব খেলোয়াড়দের দম ফেইল এই সুয়োগে পুরো মাঠ জুড়ে যেখান বল সেখানে নিজাম ভাই। সকাল বিকাল কোন সময় অনুশীলন বাদ দিতেন না। উনি একজন অভিভাবক হিসেবে সব সময় চিন্তা করতেন কুলাউড়ার খেলোয়াড়েরা কিভাবে খেলায় উন্নতি করতে পারে এবং ব্যক্তিগতভাবে আমাকে খুব স্নেহ করতেন। উনি বৃহত্তর সিলেটের বিভিন্ন মাঠে খেলে কুলাউড়া উপজেলার জন্য সুনাম কুড়িয়েছেন। ভালো খেলার পাশাপাশি উনি ছিলেন ফুটবল খেলোয়াড় গড়ার কারিগর এবং খুব মজার ও চঞ্চল টাইপের মানুষ। কোন বাসায় গাছের ডাব, নারিকেল, কলা, আখ ধরেছে এটা উনার চোখে পড়ে গেলে যেভাবেই হোক তা খেতে হবে, প্রয়োজনে চুরি করে সবাইকে নিয়ে খেতেন। নিজাম ভাই যে মানের খেলোয়াড় ছিলেন ঢাকা লিখে খেলা কোন ব্যাপার ছিলোনা। কিন্তু উনি ঢাকা না গিয়ে কোন দরকার ছাড়া চলে গেলেন ইরানে। আর তখনই শেষ হয়ে গেল আমাদের ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে জনপ্রিয় মানুষ আমার গুরু নিজাম ভাইয়ের খেলার ইতি। আজ গুরু আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন না ফেরার দেশে। কুলাউড়া উপজেলার সকল সাবেক ও বর্তমান প্রজন্মের খেলোয়াড়দের পক্ষ থেকে উনার বিদেহী আত্মা শান্তি কামনা করি।”

ফুটবল মাঠে নিজাম ভাইর আরেকটা বড় গুন ছিলো নিজে খেলার থেকে অন্যকে দিয়ে খেলানোর চেষ্টা বেশী করতেন। খেলার মাঠের উনার আরেক সতীর্থ Mothiur Rahman এর ভাষায়, “নিজাম ভাই খুবই ভালো মানের ফুটবল খেলতো। উনার হঠাৎ মৃত্যু এখনো মনে হলে খারাপ লাগে। ফুটবল মাঠে উনার বিচরণ রাজার মতো ছিল। উনার সাথে অনেক ফুটবল টুর্নামেন্টে খেলেছি। উনি খুব সুন্দর বল যোগান দিতেন।” ফুটবলের পাশাপাশি উনি ব্যাডমিন্টনে কুলাউড়ার সেরা এমনকি অনেকের মতে কুলাউড়ার ইতিহাসের সেরা প্লেয়ার ছিলেন। উনার অনুজ সতীর্থ Emadul Choudhury তারহাম সৃত্মিচারণে বলেন, “আশির দশকে কুলাউড়া একাদশের নিয়মিত খেলোয়াড় ছিলেন নিজাম ভাই। কুলাউড়ার ফুটবলে খলিল ভাইর পরেই উনার স্থান। মৌলভীবাজার এবং সিলেটে লীগ সহ বিভিন্ন মাঠে দাপটের সাথে ফুটবল খেলেছেন। খুবই ভালো ব্যাডমিন্টন খেলতেন। কুলাউড়ায় উনার মতো একজন ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় এখনো আসেনি। রেলওয়ে মাঠে বিধুশিংকে সাথে নিয়ে শমশেরনগর এর উল্লাশির সাথে ব্যাডমিন্টন ফাইনাল খেলাটি এখনো পর্যন্ত কুলাউড়ার মাঠে আমার দেখা একটি সেরা খেলা ছিল।”

আসলে নিজাম ভাইকে নিয়ে লেখা শেষ হবার নয়।উনাকে নিয়ে রিপোর্ট করতে গিয়ে আমি উনার সতীর্থদের কাছ থেকে যে পরিমান সারা পেয়েছি তা সত্যিই আমাকে অবাক করেছে। আমেরিকা প্রবাসী উনার বাল্য বন্ধু Arif Ahmed আফসার অনেকটা আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “It is my privilege and honored that today I am remembering about someone whose contributions in our kulaura’s sports undoubtedly remarkable . The history is incomplete without him . My dearest friend whom we lost so early. Non other then our beloved late Nizamul islam Nizam. I m becoming emotional to remember something about him. In one word he is all square. I am so lucky that he was my close friend. Uncounted memories with him in our childhood knock me always. May Allah grant him jannatul ferdous.”

পরিশেষে কুলাউড়ার সকল নিজাম প্রেমী ফুটবল ভক্তদের পক্ষ থেকে আমি একটা আবদার রাখতে চাই স্থানীয় পর্যায়ে খেলাধুলার অভিভাবক সংগঠন উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা এবং বিপ্লব সৃষ্টিকারী সংগঠন কুলাউড়া খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতির কাছে। যে মাটির সাথে নিজাম ভাইর রক্তের বন্ধন, যে মাটির সাথে নিজাম ভাইর অাবেগ আর ভালোবাসা জড়িয়ে আছে, যে মাটির গন্ধ শুকলে নিজাম ভাইর শরীরের ঘামের গন্ধ পাওয়া যাবে, যে মাটির দর্শকরা নিজাম ভাইর ফুটবল শৈলী দেখে আন্দোলিত হতো, যে মাটি নিজাম ভাইর মতো আরেকজন ফুটবলার পাবার জন্য হাহাকার করে সেই মাটি কুলাউড়া এনসি হাই স্কুল মাঠে নিজাম ভাইর নামে একটা ফুটবল টূর্ণামেন্টের আয়োজন করেন আপনারা। আমার বিশ্বাস নিজাম ভাইর নামে টূর্ণামেন্ট করলে উক্ত টূর্ণামেন্টের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে এগিয়ে আসবেন দেশ বিদেশী অবস্থানকারী উনার সোনালী প্রজন্মের সতীর্থরা এবং সর্বোপরী এধরণের কিছু করলে উনার অাত্মা কিছুটা হলেও শান্তি পাবে। আজকে এই পবিত্র ঈদুল আযহার দিনে দোয়া করছি আল্লাহ যেনো উনার সব গুনাহ মাফ করে দিয়ে উনাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করেন।

সংগৃহিত- কুলাউড়া ফুটবলের ইতিহাস ও ঐতিহ্য হ