ঢাকা , রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কুলাউড়ার রনচাপ ইলিম উদ্দিন দিঘির ইজারা বন্ধ ও সড়ক পাকাকরণের দাবিতে মানব বন্ধন

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেটের সময় : ০৩:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২০
  • / ৪৩৯ টাইম ভিউ

মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলা শহর থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দক্ষিন পূর্বে ১০ নং হাজীপুর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডে অবস্হিত কয়েকটি গ্রামের মধ্যে বড় একটি গ্রাম হলো রনচাপ।
এই গ্রামেই অবস্থিত প্রাচিনতম একটি বড় পুকুর জনসাধারনের বক্তব্য থেকে যার পরিমান পাওয়া গেলো সাঁড়ে চার একর, যা ইলিম উদ্দিন দিঘী নামে পরিচিতি।
বিভিন্ন জনের বক্তব্য থেকে পাড়সহ এর আয়তন প্রায় সাড়ে চার একর,তাহলে সরকারী হিসেবে এটি একটি জলাশয় ।

একযুগ আগেও এই দিঘীর চারপাশে ছিলো অনেক গাছগাছালির সবুজের কারুকার্য ।এই কারুকার্যের মধ্যেই চার পাশেই অবস্থিত আছে পবিত্র স্হান, পশ্চিম পাশে অবস্হিত মসজিদ- পুর্ব পাশে ঈদগাঁ, দক্ষিনে মাজার – উত্তরে কবরস্থান ।
এমন পবিত্র স্হান বিশিষ্ট জলাশয় কুলাউড়া উপজেলায় আর একটি আছে বলে আমার মনে হয় না ।
কিন্তু বিধিবাম হলে যা হয় তাই হচ্ছে, এই এলাকায় উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি দির্ঘ কয়েক যুগ থেকেই, সৌন্দর্যমন্ডিত দিঘির চারপাশের বাধ ভেঙে কবরস্থান,ঈদগাঁ , মাজার ও একমাত্র সড়কটি সরু হয়ে যাতায়াতে অনুপযুক্ত হয়েছে ।

মানববন্ধনে এলাকাবাসীর দাবী ইলিম উদ্দিন দিঘির অবৈধভাবে ইজারা দেওয়া বন্ধ করে, রনচাপ মসজিদ কমিটি ও ঈদগাঁ কমিটির কাছে ইজারা দেওয়ার দাবী জানানো হয় ও রনচাপ সড়কটি পাকা করনের দাবিতেও এ মানব বন্ধন করা হয়।

গত শুক্রবার(১০ জুলাই) এলাকবাসী উদ্দ্যোগে এ মানব বন্ধনের আয়োজন করা হয়,এই মানববন্ধনে এলাকার প্রায় দের হাজারের উপর মানুষের উপস্থিত ছিলো উল্লেখযোগ্য,যা কি না কোন উপজেলা সদর শহরেও মানববন্ধনে এমন উপস্হিতি দেখা যায় না ।
রনচাপ মসজিদ কমিটি, ঈদগাহ কমিটি, কবরস্থান কমিটি সহ স্থানীয় এলাকাবাসীর আয়োজনে মো. ছওয়াব আলীর সভাপতিত্বে ও মামুনুর রশীদ এর পরিচালনায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন মো. ইলিয়াছ মিয়া, সুলতান উদ্দীন আহমদ, ইসমাইল হোসেন সর্দার, মো. ছমরু মিয়া, জসীম উদ্দীন, ফখর উদ্দীন আহমদ, আরাফ উদ্দীন, সুমন আহমদ, কালাম আহমদ, জিবলু মিয়া, হাফিজ রজব প্রমুখ।

মানবন্ধনে বক্তারা বলেন, সরকারে ২০৯ এর খ গেজেট অনুযায়ী ২০ একরের কম জায়গায় হলে তা দিঘি হতে পারে না, তা হয় জলাশয় ।
সরকারের গেজেট অনুযায়ী তা হলো বদ্ধ খাস জলাশয়, তা শুধুমাত্র জনসেবায় কিংবা জনস্বার্থে ব্যাবহার করার কথা, কিন্তু অবৈধভাবে তা বিগত ১০ বৎসর যাবত ফিসারম্যান সমিতিকে ইজারা দেওয়া হচ্ছে, যা সরকারে গেজেট নীতি বর্হিভূত ।
ফিসারম্যান সমিতি দিঘি থেকে উপার্জন করে যাচ্ছে কিন্তু দিঘির পার গুলোর সংস্কার করে নি কখনও, এমন কি যতেচ্ছা ব্যাবহারের জন্যই, প্রায় দুই শ বছরের প্রাচীর দিঘির পার ভেঙে যাচ্ছে, এবং পার ঘেষে এলাকার কয়েকটি গ্রামের মূল সড়কটিও বিলীন হতে যাচ্ছে । অত্র এলাকার মানুষের প্রানের দাবি এই সরকারের গেজেট বিরোধী নিয়ম বর্হিভূত বাহিরের ফিসারম্যান সমিতি কে ইজারা না দিয়ে, জনস্বার্থে ব্যাবহারের জন্য স্হানীয় মসজিদ কমিটি, ঈদগাঁ কমিটি ও কবরস্থান কমিটিকে ইজারা দিলে, এলাকার মসজিদ-ঈদগাঁ , কবরস্থান ও মাজার স্হাপনাগুলো রক্ষার জন্য এই কমিটির নিজ দায়ীত্বেই দিঘি থেকে উপার্জন ও এলাকবাসীর পক্ষ থেকে সংস্কার কাজ করা হবে, এবং পার ঘেষা সড়কটি কে মেরামত করে বিলীন হওয়া থেকে রক্ষা করা হবে ।

বক্তারা আরো বলেন :-
এই গ্রামের ভিতরের প্রবেশের যে মূল সড়কটি তা কয়েক যুগ থেকেই অবহেলিত, যদিও এই সড়ক দিয়ে কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াত ।
সড়কটি বর্ষাকালে এতোই কর্দমাক্ত হয় যে রিক্সা- সিএনজি চলা তো দুরের কথা, মানুষজন হেঁটেও চলাচল করতে পারেনা ।
কিন্তু দিঘির(জলাশয়ের )জন্য চারপাশের বাধ ভেঙে গিয়ে সড়কটিও বিলীন হয়ে যাচ্ছে,এই রাস্তাটি সংস্কার করে পাকা করনের দাবী গত ৭-৮ বছর ধরে করে আসলেও জনপ্রতিনিধিরা তা কর্নপাত করছেন না, তাই বাধ্য হয়েই এমন অভিযোগ উঠে আসে বক্তব্য থেকে ।
রাস্তাটি পাকা করনের দাবিতে মানববন্ধন করেন এলাকার প্রায় দের হাজার সাধারণ মানুষ।
প্রতিনিয়তই স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সড়কটি পাকা করা হবে আশ্বাস দিলেও কয়েক যুগেও তা বাস্তবে পাকাকরণের কোনো উদ্দ্যোগ নিতে দেখা যায়নি সেই প্রতিনিধিদের ।

গ্রামের স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা শিক্ষার্থীসহ প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষের চলাচলের এক মাত্র সডক এটি। কিন্ত বর্ষার সময় এই রাস্তাটি এতোই কর্দমাক্ত হয়ে যায়, যানবাহন চলাচল তো দুরের কথা হেটে চলাও যায় না,ভোগান্তিতে পড়তে হয় এই কয়েকটি গ্রামের জনসাধারণদের।
বর্ষার সময় ঠিকভাবে বাজারের আসাযাওয়া করা সম্ভব হয় না।
এদিকে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ছাড়াও উপজেলা চেয়ারম্যান এবং এমপি সহ সবাই পাকা করার আশ্বাস দিলেও, তা বাস্তবে রূপ নেয় না ।

প্রতি বছর বর্ষার সময় আমাদের সব ধরণের কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যায়,ঘন বর্ষায় এই রাস্তা দিয়ে চলাচলের সুযোগ হয়না।তাই সরকারের কাছে আমাদের দাবি উপজেলার ১০ হাজীপুর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের এই সড়কটি পাকা করে দিলে কয়েকটি গ্রামের হাজারহাজার স্কুল-মাদ্রাসা ও কলেজের শিক্ষার্থীসহ মানুষের দুঃখ-দুদর্শা থেকে মুক্তি পাবে।

পোস্ট শেয়ার করুন

কুলাউড়ার রনচাপ ইলিম উদ্দিন দিঘির ইজারা বন্ধ ও সড়ক পাকাকরণের দাবিতে মানব বন্ধন

আপডেটের সময় : ০৩:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২০

মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলা শহর থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দক্ষিন পূর্বে ১০ নং হাজীপুর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডে অবস্হিত কয়েকটি গ্রামের মধ্যে বড় একটি গ্রাম হলো রনচাপ।
এই গ্রামেই অবস্থিত প্রাচিনতম একটি বড় পুকুর জনসাধারনের বক্তব্য থেকে যার পরিমান পাওয়া গেলো সাঁড়ে চার একর, যা ইলিম উদ্দিন দিঘী নামে পরিচিতি।
বিভিন্ন জনের বক্তব্য থেকে পাড়সহ এর আয়তন প্রায় সাড়ে চার একর,তাহলে সরকারী হিসেবে এটি একটি জলাশয় ।

একযুগ আগেও এই দিঘীর চারপাশে ছিলো অনেক গাছগাছালির সবুজের কারুকার্য ।এই কারুকার্যের মধ্যেই চার পাশেই অবস্থিত আছে পবিত্র স্হান, পশ্চিম পাশে অবস্হিত মসজিদ- পুর্ব পাশে ঈদগাঁ, দক্ষিনে মাজার – উত্তরে কবরস্থান ।
এমন পবিত্র স্হান বিশিষ্ট জলাশয় কুলাউড়া উপজেলায় আর একটি আছে বলে আমার মনে হয় না ।
কিন্তু বিধিবাম হলে যা হয় তাই হচ্ছে, এই এলাকায় উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি দির্ঘ কয়েক যুগ থেকেই, সৌন্দর্যমন্ডিত দিঘির চারপাশের বাধ ভেঙে কবরস্থান,ঈদগাঁ , মাজার ও একমাত্র সড়কটি সরু হয়ে যাতায়াতে অনুপযুক্ত হয়েছে ।

মানববন্ধনে এলাকাবাসীর দাবী ইলিম উদ্দিন দিঘির অবৈধভাবে ইজারা দেওয়া বন্ধ করে, রনচাপ মসজিদ কমিটি ও ঈদগাঁ কমিটির কাছে ইজারা দেওয়ার দাবী জানানো হয় ও রনচাপ সড়কটি পাকা করনের দাবিতেও এ মানব বন্ধন করা হয়।

গত শুক্রবার(১০ জুলাই) এলাকবাসী উদ্দ্যোগে এ মানব বন্ধনের আয়োজন করা হয়,এই মানববন্ধনে এলাকার প্রায় দের হাজারের উপর মানুষের উপস্থিত ছিলো উল্লেখযোগ্য,যা কি না কোন উপজেলা সদর শহরেও মানববন্ধনে এমন উপস্হিতি দেখা যায় না ।
রনচাপ মসজিদ কমিটি, ঈদগাহ কমিটি, কবরস্থান কমিটি সহ স্থানীয় এলাকাবাসীর আয়োজনে মো. ছওয়াব আলীর সভাপতিত্বে ও মামুনুর রশীদ এর পরিচালনায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন মো. ইলিয়াছ মিয়া, সুলতান উদ্দীন আহমদ, ইসমাইল হোসেন সর্দার, মো. ছমরু মিয়া, জসীম উদ্দীন, ফখর উদ্দীন আহমদ, আরাফ উদ্দীন, সুমন আহমদ, কালাম আহমদ, জিবলু মিয়া, হাফিজ রজব প্রমুখ।

মানবন্ধনে বক্তারা বলেন, সরকারে ২০৯ এর খ গেজেট অনুযায়ী ২০ একরের কম জায়গায় হলে তা দিঘি হতে পারে না, তা হয় জলাশয় ।
সরকারের গেজেট অনুযায়ী তা হলো বদ্ধ খাস জলাশয়, তা শুধুমাত্র জনসেবায় কিংবা জনস্বার্থে ব্যাবহার করার কথা, কিন্তু অবৈধভাবে তা বিগত ১০ বৎসর যাবত ফিসারম্যান সমিতিকে ইজারা দেওয়া হচ্ছে, যা সরকারে গেজেট নীতি বর্হিভূত ।
ফিসারম্যান সমিতি দিঘি থেকে উপার্জন করে যাচ্ছে কিন্তু দিঘির পার গুলোর সংস্কার করে নি কখনও, এমন কি যতেচ্ছা ব্যাবহারের জন্যই, প্রায় দুই শ বছরের প্রাচীর দিঘির পার ভেঙে যাচ্ছে, এবং পার ঘেষে এলাকার কয়েকটি গ্রামের মূল সড়কটিও বিলীন হতে যাচ্ছে । অত্র এলাকার মানুষের প্রানের দাবি এই সরকারের গেজেট বিরোধী নিয়ম বর্হিভূত বাহিরের ফিসারম্যান সমিতি কে ইজারা না দিয়ে, জনস্বার্থে ব্যাবহারের জন্য স্হানীয় মসজিদ কমিটি, ঈদগাঁ কমিটি ও কবরস্থান কমিটিকে ইজারা দিলে, এলাকার মসজিদ-ঈদগাঁ , কবরস্থান ও মাজার স্হাপনাগুলো রক্ষার জন্য এই কমিটির নিজ দায়ীত্বেই দিঘি থেকে উপার্জন ও এলাকবাসীর পক্ষ থেকে সংস্কার কাজ করা হবে, এবং পার ঘেষা সড়কটি কে মেরামত করে বিলীন হওয়া থেকে রক্ষা করা হবে ।

বক্তারা আরো বলেন :-
এই গ্রামের ভিতরের প্রবেশের যে মূল সড়কটি তা কয়েক যুগ থেকেই অবহেলিত, যদিও এই সড়ক দিয়ে কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াত ।
সড়কটি বর্ষাকালে এতোই কর্দমাক্ত হয় যে রিক্সা- সিএনজি চলা তো দুরের কথা, মানুষজন হেঁটেও চলাচল করতে পারেনা ।
কিন্তু দিঘির(জলাশয়ের )জন্য চারপাশের বাধ ভেঙে গিয়ে সড়কটিও বিলীন হয়ে যাচ্ছে,এই রাস্তাটি সংস্কার করে পাকা করনের দাবী গত ৭-৮ বছর ধরে করে আসলেও জনপ্রতিনিধিরা তা কর্নপাত করছেন না, তাই বাধ্য হয়েই এমন অভিযোগ উঠে আসে বক্তব্য থেকে ।
রাস্তাটি পাকা করনের দাবিতে মানববন্ধন করেন এলাকার প্রায় দের হাজার সাধারণ মানুষ।
প্রতিনিয়তই স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সড়কটি পাকা করা হবে আশ্বাস দিলেও কয়েক যুগেও তা বাস্তবে পাকাকরণের কোনো উদ্দ্যোগ নিতে দেখা যায়নি সেই প্রতিনিধিদের ।

গ্রামের স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা শিক্ষার্থীসহ প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষের চলাচলের এক মাত্র সডক এটি। কিন্ত বর্ষার সময় এই রাস্তাটি এতোই কর্দমাক্ত হয়ে যায়, যানবাহন চলাচল তো দুরের কথা হেটে চলাও যায় না,ভোগান্তিতে পড়তে হয় এই কয়েকটি গ্রামের জনসাধারণদের।
বর্ষার সময় ঠিকভাবে বাজারের আসাযাওয়া করা সম্ভব হয় না।
এদিকে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ছাড়াও উপজেলা চেয়ারম্যান এবং এমপি সহ সবাই পাকা করার আশ্বাস দিলেও, তা বাস্তবে রূপ নেয় না ।

প্রতি বছর বর্ষার সময় আমাদের সব ধরণের কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যায়,ঘন বর্ষায় এই রাস্তা দিয়ে চলাচলের সুযোগ হয়না।তাই সরকারের কাছে আমাদের দাবি উপজেলার ১০ হাজীপুর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের এই সড়কটি পাকা করে দিলে কয়েকটি গ্রামের হাজারহাজার স্কুল-মাদ্রাসা ও কলেজের শিক্ষার্থীসহ মানুষের দুঃখ-দুদর্শা থেকে মুক্তি পাবে।