ঢাকা , শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪, ৪ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
আপডেট :
প্রিয়জনদের মানসিক রোগ যদি আপনজন বুঝতে না পারেন আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা ও অভিষেক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা করেছে পর্তুগাল আওয়ামীলীগ যেকোনো প্রচেষ্টা এককভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়: দুদক সচিব শ্রীমঙ্গলে দুটি চোরাই মোটরসাইকেল সহ মিল্টন কুমার আটক পর্তুগালের অভিবাসন আইনে ব্যাপক পরিবর্তন পর্তুগাল বিএনপি আহবায়ক কমিটির জুমে জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয় এমপি আনোয়ারুল আজিমকে হত্যার ঘটনায় আটক তিনজন , এতে বাংলাদেশী মানুষ জড়িত:স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকাস্থ ইরান দুতাবাসে রাইসির শোক বইয়ে মির্জা ফখরুলের স্বাক্ষর মুটো ফোনের আসক্তি দূর করবেন যেভাবে…

কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে কুলাউড়ার মুরইছড়া নদী | দেশদিগন্ত

মাহদী হাসান কামাল | সম্পাদকীয়
  • আপডেটের সময় : ১১:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৩
  • / ২৬৪ টাইম ভিউ

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তবর্তী কর্মধা-পৃথিমপাশা ইউনিয়নের আন্তর্জাতিক সীমানা নির্ধারণকারী পাহাড়ি নদী মুরইছড়া কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে।

১৮৪২ সীমানা পিলার এলাকা দিয়ে নেমে আসা পাহাড়ি জলধারা বড় কালাইগিড়ি পাহাড়ের পশ্চিম পাদদেশের লুথি টিলায় অবস্থিত মুরইছড়া ঝরনায় মিলিত হয়েছে। সেখান থেকে নেমে এসেছে মুরইছড়া নদী। ভারত-বাংলাদেশ সীমানা নির্ধারণকারী এই নদী এওলাছড়াপুঞ্জি হয়ে সমতলের মুরইছড়া নতুন বস্তি, শিকড়িয়া, কমলা টিলার ডেমা বিল হয়ে আলীনগরের বেলরতল এলাকায় মনু নদীতে মিলিত হয়েছে। এরই মধ্যে বেলরতল পয়েন্ট থেকে ষাঁড়েরগজ পাহাড়ের লুথি টিলা পর্যন্ত নদীটির ১০-১২ কিলোমিটার বিলুপ্ত হয়েছে। নিম্নাঞ্চলের সমতল এলাকা মুরইছড়া নতুন বস্তি, শিকড়িয়া, কমলাটিলা থেকে আলীনগর বেলরতল মনু নদী পর্যন্ত বহমান অংশের বেশির ভাগ স্থানে বিলুপ্ত হয়েছে মুরইছড়া নদীটি।

সম্প্রতি নদী দিবস উপলক্ষে নদী, জলাভূমি ও প্রাণিসম্পদ-বিষয়ক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রিভারাইন পিপলের প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য মতে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দাপ্তরিকভাবে স্বীকৃত ৫৪টি আন্তঃসীমান্ত নদীর বাইরেও এ পর্যন্ত আরও ৬৯টি নদী চিহ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে কুলাউড়ার সীমান্তবর্তী মুরইছড়া নদীটিও একটি।

নদী এলাকা ঘুরে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হারারগজ পাহাড় থেকে মুরইছড়া নদীর সঙ্গে উপড়িছড়া, উগারছড়া, এওলাছড়াসহ কয়েকটি পাহাড়ি ছড়া পৃথিমপাশা ইউনিয়নের আলীনগরের কমলাটিলা এলাকায় অবস্থিত ডেমা বিলে মিলিত হয়েছে। সেচ প্রকল্প ও বুরো ধান চাষাবদের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড ১৯৮২ সালে আলীনগর গ্রামের ডেমা বিলের পশ্চিম পাশে মনু নদীর সঙ্গে সংযুক্ত মুরইছড়া নদীতে একটি স্লুইসগেট নির্মাণ করে। সমতলের বিভিন্ন এলাকায় নদীর খনন না করায় মুরইছড়া নদীটি ভরাট হয়ে এখন বিলুপ্তপ্রায়। বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ছড়াগুলোসহ মুরইছড়া নদীতে বৃদ্ধি পাওয়া পানিতে সমতলের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থানীয় কৃষক আব্দুল আহাদ, কয়ছর আলী, ছত্তার আলী জানান, মুরইছড়া নদী খনন করে মনু নদী থেকে স্লুইসগেটের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করলে সারা বছর সেচের ব্যবস্থা করা যায়। পৃথিমপাশা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কমরেড আব্দুল লতিফ জানান, অনেক দিন ধরে খননকাজ না হওয়ায় নদীটি একটি মরা নদীতে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় কৃষকরা মনু নদী থেকে মুরইছড়া নদী দিয়ে পানি সরবরাহ করে বোরো ধানসহ অন্যান্য চাষাবাদ করতে পারতেন স্লুইসগেট সংস্কার ও নদী খনন করা হলে।

বন বিভাগের কুলাউড়ার রেঞ্জ কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন জানান, মুরইছড়া বিটের আওতায় হারারগজ রিজার্ভ ফরেস্ট ও পৃথিমপাশা একোয়ার ফরেস্ট পাহাড়ে উজান থেকে মুরইছড়া নদীসহ বিভিন্ন পাহাড়ি ছড়া প্রাকৃতিকভাবে বহমান। মুরইছড়া ঝরনা ও বড় কালাইগিড়ি পাহাড় এলাকায় ইকো পার্ক স্থাপন প্রকল্পের কাজ নানা জটিলতায় বন্ধ রয়েছে।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল জানান, কালের বিবর্তনে অনেক নদী হারিয়ে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড মনু থেকে মুরইছড়া নদীর সংযোগস্থলের ডেমা বিল নামক এলাকায় ১৯৮২-৮৩ অর্থবছরে একটি স্লুইসগেট নির্মাণ করে। কৃষিকাজের সুবিধার জন্য প্রয়োজনে আরও স্লুইসগেট নির্মাণ ও নদী খননের জন্য সরেজমিন পরিদর্শন শেষে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

পোস্ট শেয়ার করুন

কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে কুলাউড়ার মুরইছড়া নদী | দেশদিগন্ত

আপডেটের সময় : ১১:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৩

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তবর্তী কর্মধা-পৃথিমপাশা ইউনিয়নের আন্তর্জাতিক সীমানা নির্ধারণকারী পাহাড়ি নদী মুরইছড়া কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে।

১৮৪২ সীমানা পিলার এলাকা দিয়ে নেমে আসা পাহাড়ি জলধারা বড় কালাইগিড়ি পাহাড়ের পশ্চিম পাদদেশের লুথি টিলায় অবস্থিত মুরইছড়া ঝরনায় মিলিত হয়েছে। সেখান থেকে নেমে এসেছে মুরইছড়া নদী। ভারত-বাংলাদেশ সীমানা নির্ধারণকারী এই নদী এওলাছড়াপুঞ্জি হয়ে সমতলের মুরইছড়া নতুন বস্তি, শিকড়িয়া, কমলা টিলার ডেমা বিল হয়ে আলীনগরের বেলরতল এলাকায় মনু নদীতে মিলিত হয়েছে। এরই মধ্যে বেলরতল পয়েন্ট থেকে ষাঁড়েরগজ পাহাড়ের লুথি টিলা পর্যন্ত নদীটির ১০-১২ কিলোমিটার বিলুপ্ত হয়েছে। নিম্নাঞ্চলের সমতল এলাকা মুরইছড়া নতুন বস্তি, শিকড়িয়া, কমলাটিলা থেকে আলীনগর বেলরতল মনু নদী পর্যন্ত বহমান অংশের বেশির ভাগ স্থানে বিলুপ্ত হয়েছে মুরইছড়া নদীটি।

সম্প্রতি নদী দিবস উপলক্ষে নদী, জলাভূমি ও প্রাণিসম্পদ-বিষয়ক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রিভারাইন পিপলের প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য মতে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দাপ্তরিকভাবে স্বীকৃত ৫৪টি আন্তঃসীমান্ত নদীর বাইরেও এ পর্যন্ত আরও ৬৯টি নদী চিহ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে কুলাউড়ার সীমান্তবর্তী মুরইছড়া নদীটিও একটি।

নদী এলাকা ঘুরে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হারারগজ পাহাড় থেকে মুরইছড়া নদীর সঙ্গে উপড়িছড়া, উগারছড়া, এওলাছড়াসহ কয়েকটি পাহাড়ি ছড়া পৃথিমপাশা ইউনিয়নের আলীনগরের কমলাটিলা এলাকায় অবস্থিত ডেমা বিলে মিলিত হয়েছে। সেচ প্রকল্প ও বুরো ধান চাষাবদের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড ১৯৮২ সালে আলীনগর গ্রামের ডেমা বিলের পশ্চিম পাশে মনু নদীর সঙ্গে সংযুক্ত মুরইছড়া নদীতে একটি স্লুইসগেট নির্মাণ করে। সমতলের বিভিন্ন এলাকায় নদীর খনন না করায় মুরইছড়া নদীটি ভরাট হয়ে এখন বিলুপ্তপ্রায়। বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ছড়াগুলোসহ মুরইছড়া নদীতে বৃদ্ধি পাওয়া পানিতে সমতলের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থানীয় কৃষক আব্দুল আহাদ, কয়ছর আলী, ছত্তার আলী জানান, মুরইছড়া নদী খনন করে মনু নদী থেকে স্লুইসগেটের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করলে সারা বছর সেচের ব্যবস্থা করা যায়। পৃথিমপাশা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কমরেড আব্দুল লতিফ জানান, অনেক দিন ধরে খননকাজ না হওয়ায় নদীটি একটি মরা নদীতে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় কৃষকরা মনু নদী থেকে মুরইছড়া নদী দিয়ে পানি সরবরাহ করে বোরো ধানসহ অন্যান্য চাষাবাদ করতে পারতেন স্লুইসগেট সংস্কার ও নদী খনন করা হলে।

বন বিভাগের কুলাউড়ার রেঞ্জ কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন জানান, মুরইছড়া বিটের আওতায় হারারগজ রিজার্ভ ফরেস্ট ও পৃথিমপাশা একোয়ার ফরেস্ট পাহাড়ে উজান থেকে মুরইছড়া নদীসহ বিভিন্ন পাহাড়ি ছড়া প্রাকৃতিকভাবে বহমান। মুরইছড়া ঝরনা ও বড় কালাইগিড়ি পাহাড় এলাকায় ইকো পার্ক স্থাপন প্রকল্পের কাজ নানা জটিলতায় বন্ধ রয়েছে।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল জানান, কালের বিবর্তনে অনেক নদী হারিয়ে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড মনু থেকে মুরইছড়া নদীর সংযোগস্থলের ডেমা বিল নামক এলাকায় ১৯৮২-৮৩ অর্থবছরে একটি স্লুইসগেট নির্মাণ করে। কৃষিকাজের সুবিধার জন্য প্রয়োজনে আরও স্লুইসগেট নির্মাণ ও নদী খননের জন্য সরেজমিন পরিদর্শন শেষে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।