ঢাকা , রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪, ৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কানাইঘাটে বাঘ আতঙ্ক

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেটের সময় : ১১:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৯
  • / ৮৫৬ টাইম ভিউ

নিজস্ব প্রতিনিধি কানাইঘাটঃ গতকাল বুধবার সময় সকাল ৭ঘটিকা । গ্রামের মসজিদের হঠাৎ মাইকে ঘোষণা করা হলো আসসালামুআলাইকুম ‘প্রিয় এলাকাবাসী আমাদের লোভাছড়া চা বাগানে বাঘ নেমেছে, আপনারা লাঠিসোটা, সেল, জাল সহ যার যা কিছু আছে সব নিয়ে তৈরি থাকেন, আজ বাঘ গড় (আটক) করা হবে ‘

মাইকের ঘোষণার পর থেকে বিভিন্ন গ্রামের শত শত লোকজন দলবদ্ধভাবে জড়ো হন বাঘ আটকের জন্য। লোকজন ঢোল,মন্দিরা, তবলা বাজিয়ে নৃত্যের তালে তালে বাঘ আটকের জন্য প্রস্তুতি নেন। সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলে বাঘ আটকের প্রস্তুতি।

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের লোভাছড়া চা বাগান এলাকার একটি টিলায় বাঘ রয়েছে এমন সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে প্রথা অনুযায়ী এলাকার বিভিন্ন গ্রামের শত শত লোকজন টিলার চারিদিকে ব্যারিকেড দিয়ে বাঘ ধরার জন্য জাল পাতান বা বাঘ দরার জন্য ফাদ পাতিয়া থাকেন

কিন্তু সন্ধ্যা ৭টার দিকে ব্যারিকেড দেওয়া জাল টপকে বিশাল আকারের বাঘটি কয়েকজনকে জখম করে পাশ্ববর্তী নুন ছড়া টিলায় লাফ দিয়ে চলে যায়।

স্হানীয় অভিজ্ঞ লোকরা জানান, ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে বিভিন্ন সময় খাবারের সন্ধানে দলছুট হয়ে নানা প্রজাতির বাঘ ভারতের সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদশের সীমান্তবর্তী বন ও টিলা বেষ্টিত লোভাছড়া চা বাগান এলাকায় চলে আসে। তারই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার (২২ এপ্রিল) রাতে একটি বড় ডোরাকাটা বাঘ যা স্থানীয় ভাষায় বড়বাঘ, একটি টিলায় অবস্থান নিয়ে স্থানীয় সূত্রা বাবু নামে একজন কৃষকের একটি গরু খেয়ে ফেলে।

এলাকার গবাদি পশু বাঘের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য এরপর থেকে বাঘটিকে জীবিত ধরার জন্য বুধবার সকাল থেকে প্রস্তুতি নিয়ে লোকজন টিলায় একত্রিত হয়ে গড় দেন। কিন্তু বাঘটি জালের গড়ড় টপকে পাশের নুন ছড়া টিলায় চলে যায়।

স্হানীয় লোকজন জানান বাঘ গড় মানে বাঘকে প্রাণে হত্যা নয়। বাঘকে জীবিত ধরে বন বিভাগে হস্তান্তর করি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া সুলতানার বাঘ আটকের সংবাদ পাওয়ার পর তিনি তাৎক্ষণিক সেখানে উপজেলা বিট অফিসের কর্মকর্তাদের সেখানে পাঠান। স্থানীয় লোকজন যাতে বাঘ ধরে হত্যা করতে না পারে।

পোস্ট শেয়ার করুন

কানাইঘাটে বাঘ আতঙ্ক

আপডেটের সময় : ১১:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৯

নিজস্ব প্রতিনিধি কানাইঘাটঃ গতকাল বুধবার সময় সকাল ৭ঘটিকা । গ্রামের মসজিদের হঠাৎ মাইকে ঘোষণা করা হলো আসসালামুআলাইকুম ‘প্রিয় এলাকাবাসী আমাদের লোভাছড়া চা বাগানে বাঘ নেমেছে, আপনারা লাঠিসোটা, সেল, জাল সহ যার যা কিছু আছে সব নিয়ে তৈরি থাকেন, আজ বাঘ গড় (আটক) করা হবে ‘

মাইকের ঘোষণার পর থেকে বিভিন্ন গ্রামের শত শত লোকজন দলবদ্ধভাবে জড়ো হন বাঘ আটকের জন্য। লোকজন ঢোল,মন্দিরা, তবলা বাজিয়ে নৃত্যের তালে তালে বাঘ আটকের জন্য প্রস্তুতি নেন। সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলে বাঘ আটকের প্রস্তুতি।

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের লোভাছড়া চা বাগান এলাকার একটি টিলায় বাঘ রয়েছে এমন সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে প্রথা অনুযায়ী এলাকার বিভিন্ন গ্রামের শত শত লোকজন টিলার চারিদিকে ব্যারিকেড দিয়ে বাঘ ধরার জন্য জাল পাতান বা বাঘ দরার জন্য ফাদ পাতিয়া থাকেন

কিন্তু সন্ধ্যা ৭টার দিকে ব্যারিকেড দেওয়া জাল টপকে বিশাল আকারের বাঘটি কয়েকজনকে জখম করে পাশ্ববর্তী নুন ছড়া টিলায় লাফ দিয়ে চলে যায়।

স্হানীয় অভিজ্ঞ লোকরা জানান, ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে বিভিন্ন সময় খাবারের সন্ধানে দলছুট হয়ে নানা প্রজাতির বাঘ ভারতের সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদশের সীমান্তবর্তী বন ও টিলা বেষ্টিত লোভাছড়া চা বাগান এলাকায় চলে আসে। তারই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার (২২ এপ্রিল) রাতে একটি বড় ডোরাকাটা বাঘ যা স্থানীয় ভাষায় বড়বাঘ, একটি টিলায় অবস্থান নিয়ে স্থানীয় সূত্রা বাবু নামে একজন কৃষকের একটি গরু খেয়ে ফেলে।

এলাকার গবাদি পশু বাঘের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য এরপর থেকে বাঘটিকে জীবিত ধরার জন্য বুধবার সকাল থেকে প্রস্তুতি নিয়ে লোকজন টিলায় একত্রিত হয়ে গড় দেন। কিন্তু বাঘটি জালের গড়ড় টপকে পাশের নুন ছড়া টিলায় চলে যায়।

স্হানীয় লোকজন জানান বাঘ গড় মানে বাঘকে প্রাণে হত্যা নয়। বাঘকে জীবিত ধরে বন বিভাগে হস্তান্তর করি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া সুলতানার বাঘ আটকের সংবাদ পাওয়ার পর তিনি তাৎক্ষণিক সেখানে উপজেলা বিট অফিসের কর্মকর্তাদের সেখানে পাঠান। স্থানীয় লোকজন যাতে বাঘ ধরে হত্যা করতে না পারে।