ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
আপডেট :
এমপি আনোয়ারুল আজিমকে হত্যার ঘটনায় আটক তিনজন , এতে বাংলাদেশী মানুষ জড়িত:স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকাস্থ ইরান দুতাবাসে রাইসির শোক বইয়ে মির্জা ফখরুলের স্বাক্ষর মুটো ফোনের আসক্তি দূর করবেন যেভাবে… এই অভ্যাসগুলোর চর্চা নিয়মিত করা উচিৎ স্বামী-স্ত্রীর বয়সের পার্থক্য থাকা জরুরি কেনো ? পুনাক এর উদ্যোগে দুস্হ ও অসহায় নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরন করা হয়েছে কুলাউড়ার টিলাগাঁও এ সরকারি গাছ বিক্রি করলেন প্রধান শিক্ষক লটারি বাইক জিতলো মা’ সে কারণে কপাল পুড়লো মেয়ের ফজরের নামাজে যাওয়ার সময় রাস্তায় কুকুর দলের আক্রমনে প্রান গেলো ইজাজুলের সাবেক সাংসদ সেলিমা আহমাদ মেরীর সাথে পর্তুগাল আওয়ামিলীগের মতবিনিময় সভা

কথা না শুনলে রশি বেঁধে টেনে নিয়ে আসবো

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেটের সময় : ০৪:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২০
  • / ৫১৫ টাইম ভিউ

‘নারায়নগঞ্জের এমপি শামিম ওসমানেরও টাইম ছিলো না আমার হাতে। বানিয়াচং থাকাকালীন আব্দুল মজিদ খাঁনকে তো পাত্তাই দেইনি। আর এখানের কোনো নেতা তো আমার চোখেই পড়ে না। এগো টাইম নেই আমার কাছে। কথা না শুনলে রশি বেঁধে একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে টেনে নিয়ে আসবো’। কথাগুলো ওসমানীনগর থানার ওসি রাশেদ মোবারকের

উপজেলার উমরপুর ইউপি আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদ পরিবারের সদস্য দবির মিয়া, উপজেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইকবাল আহমদ এবং উমরপুর ইউনিয়নের সালিশি ব্যক্তিত্ব সাবেক ইউপি সদস্য তখলিছ আলী, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক উমরপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান চেরাগ আলীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এমন তথ্য।

সবার মুঠো ফোনে একই রকম হুশিয়ারী বার্তা রয়েছে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার।

বৃহস্পতিবার বিকেলেও থানায় থাকা অফিসিয়াল মুঠোফোন থেকে উল্লেখিত ব্যক্তিদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে এমন হুমকি প্রদান করেন তিনি। ওসির এমন দাম্ভিক, অশ্লীল এবং অশোভন আচরণ, ভয়ভীতি প্রদর্শনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের সিনিয়র নেতৃবৃন্দসহ ভূক্তভোগীরা ইতোমধ্যে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজির কাছে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানিয়েছেন। কাল নালিশি অভিযোগ ডিআইজি ও পুলিশ সুপারের কাছে জমা দেওয়ার প্রস্তুতিও চলছে।

লকডাউন চলাকালিন সময়ে পুলিশ কর্তৃক হয়ারানীর দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করার অভিযোগে পরবর্তীতে ওসির কাছে মাফ না চাওয়ায় তাকে আটক করে গুজব রটনাকারী সাজিয়ে মামলা দিয়ে কোর্টে চালান করে দেওয়া হয়। লকডাউন ও গণ পরিবহন বন্ধ থাকাকালিন সময়ে ঢাকা- সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগরের প্রবেশদ্বার শেরপুর টুলপ্লাজায় চেকপোস্ট বসিয়ে প্রতিটি গাড়িকে নানা কায়দায় চাঁদা আদায় ও সাধারণ চালকদের মারধরের বিষয়টি জানিয়েছেন ভূক্তভোগীসহ শেরপুর টোলপ্লাজা এলাকার একাধিক বাসিন্দারা। অন্যদিকে লকডাউন চালাকালে অবাধে জনসমাগম করার বিষয়ে উপজেলার সচেতন মহলের পক্ষ থেকে ওসিকে বিভিন্ন সময় অবগত করা হলেও ইউএনওর দোহাই দিয়ে তিনি অবগতকারীদের সঙ্গে অশালিন আচরণ করতেন বলে অনেকেই জানিয়েছেন।

এদিকে সরকার একাধিক শর্তে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দিলে ওসমানীনগরের কোথাও স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। এমনকি থানা কমপ্লেক্সের পাশের একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মধ্যরাত পর্যন্ত খোলা থাকতে দেখা যায়। ওসমানীনগরের প্রতিনিটা হাট-বাজারে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ করোনা ভীতি উপেক্ষা করে ইচ্ছে মতো চলাচল করলেও কোথাও পুলিশের ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না।

উপজেলার সিকন্দরপুর গ্রামের একাধিক ব্যক্তি, মধ্য এপ্রিলে লকডাউন চলাকালিন সময়ে ওসির শেল্টারে ঢাকার নারায়নগঞ্জ থেকে এক মহিলা সিকন্দরপুর গ্রামে আসলে গ্রামবাসী প্রতিবাদ জানান। বিষয়টি জানাজানির পর উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন ইউএনওর হস্তক্ষেপে মহিলাকে রাতের আধাঁরে অন্যত্র সরিয়ে নিলেও বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীসহ প্রতিবাদী লোকজনকে ধরে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেন ওসি রাশেদ মোবারক।

উপজেলার চাতলপার এলাকার এক সচেতন ব্যক্তি জানান, ‘সম্প্রতি ওসি রাশেদ মোবারক আমাদের এলাকায় আসলে উপস্থিত লোকজনের কথার প্রসঙ্গে তিনি সিলেটিদের নিয়ে ব্যঙ্গাত্বক শব্দ ব্যবহার করেছেন। কিছু দিন আগে ওসির শেল্টারে জোরপূর্বক জায়গা দখলের পায়তারায় উপজেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাজ্জাদকে ধরে নিয়ে আসার হুমকি দিয়েছেন বলে আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্ট লোকজন জানিয়েছেন।

একই অভিযোগ উপজেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইকবাল আহমদের। তিনি জানান, ‘বৃহস্পতিবার ওসি রাশেদ মোবারক অফিসিয়াল নাম্বার থেকে আমার ব্যাক্তিগত ফোনে কল করে বলেন, আমরা জানতে পেরেছি আপনার এলাকায় একটি সংঘাত হবে আর যদি তা হয় তাহলে আপনাকে প্রধান আসামি করে দড়ি দিয়ে বেঁধে টেনে হিচড়ে থানায় নিয়ে আসব’।

ওসির এমন দাম্ভিকতার বিষয়টি আমি তাৎক্ষনিক সিলেট জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতৃবৃন্দকে অবগত করার পাশাপাশি সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ও পুলিশ সুপারকে অবগত করে রেখেছি।

উমরপুর ইউনিয়নের সালিশ ব্যক্তিত্ব সাবেক ইউপি সদস্য তখলিছ মিয়া বলেন, ‌’বৃহস্পতিবার বিকালে থানার ওসি আমাকে ফোন দিয়ে আমার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর বলেন, আপনি সংঘাত সৃষ্টি করছেন আমার কাছে তথ্য রয়েছে। এ ব্যাপারে বেশি বাড়াবাড়ি করলে তিনি রশি দিয়ে বেঁধে আমাকে থানায় নিয়ে যাবেন বলে হুমকি প্রদান করে ফোনের লাইন কেটে দেন।’

উমরপুর ইউপি আওয়ামীলীগর সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা শহিদ পরিবারের সদস্য ষাটোর্ধ দবির মিয়া ওসির এমন উদ্ধতপূর্ন আচরণের বিষয়ে প্রতিবেদককে জানাতে গিয়ে কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার আমার মোবাইলে ওসি রাশেদ মোবারকের কল আসে। তিনি বলেন, আমরা গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পেরেছি আপনার এলাকায় কিছুদিনের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টি হবার সম্ভাবনা আছে। আর যদি তা হয়, তাহলে আপনাকে প্রধান আসামি করে উমরপুর থেকে রশি দিয়ে বেঁধে থানায় নিয়ে আসব। আমি ওসিকে আমার পরিচয় দিয়ে বলি আমি বায়োবৃদ্ধ মানুষ। আমার জানামতে এলাকায় কোনো সংঘাত নেই। আমার পরিচয় জানার পর তিনি ফোনের লাইন কেটে দেন।

উমরপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান চেরাগ আলী বলেন, আমি বৃদ্ধ হয়ে গেছি। কোনো প্রকার সমস্যাও নেই। বৃহস্পতিবার বিকেলে ওসি রাশেদ মোবারক আমার মোবাইল ফোনে ফোন দিয়ে জানান, আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে উমরপুর ইউনিয়নে আপনারা সংঘাতের সৃষ্টি করছেন। সংঘাত সৃষ্টি হলে আমি উমরপুরের সবাইকে বেঁধে থানায় নিয়ে আসব। প্রয়োজনে আপনাকেও রশি দিয়ে বেঁধে থানায় নিয়ে আসা হবে।

ওসমানীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আতাউর রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক আনা মিয়া বলেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতিসহ উপজেলা যুবলীগ সভাপতির কাছ থেকে ওসির এমন আচরণের বিষয়টি জেনে আমরা খুবই মর্মাহত হয়েছি। বিষয়টি নিয়ে আমরা পুলিশ সুপারসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের স্মরণাপন্ন হবো।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান চৌধুরী নাজলু বলেন, ওসি রাশেদ মোবারক থানায় যোগদানের পর থেকে তিনি বিচারপ্রার্থী লোকজনসহ সাধারণ মানুষের সঙ্গে খারাপ আচরণ করছেন বলে বিস্তর অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে আমরা পুলিশ সুপারসহ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষে সঙ্গে আলোচনা করেছি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে প্রয়োজনে সাধারণ মানুষদের সঙ্গে নিয়ে আমরা ওসিকে বয়কটের সামাজিক কর্মসূচি ঘোষণা দিব।

উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক অরুনোদয় পাল ঝলক বলেন, একজন ওসির কাছ থেকে এ ধরনের আচারণ খুবই দুঃখজনক। বিষয়টির জন্য দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ওসমানীনগরের ওসি রাশেদ মোবারক বলেন, কেউ শান্তি শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করলে তাকে ধমক দিতে পারি, কিন্তু রশি দিয়ে বেঁধে আনার অভিযোগ ভিত্তিহীন। তিনি কোনো নেতা নেত্রীর বিরুদ্ধে কখনোই কটুবাক্য উচ্চারণ করেননি বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ওসমানীনগর) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ হাতে পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পোস্ট শেয়ার করুন

কথা না শুনলে রশি বেঁধে টেনে নিয়ে আসবো

আপডেটের সময় : ০৪:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২০

‘নারায়নগঞ্জের এমপি শামিম ওসমানেরও টাইম ছিলো না আমার হাতে। বানিয়াচং থাকাকালীন আব্দুল মজিদ খাঁনকে তো পাত্তাই দেইনি। আর এখানের কোনো নেতা তো আমার চোখেই পড়ে না। এগো টাইম নেই আমার কাছে। কথা না শুনলে রশি বেঁধে একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে টেনে নিয়ে আসবো’। কথাগুলো ওসমানীনগর থানার ওসি রাশেদ মোবারকের

উপজেলার উমরপুর ইউপি আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদ পরিবারের সদস্য দবির মিয়া, উপজেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইকবাল আহমদ এবং উমরপুর ইউনিয়নের সালিশি ব্যক্তিত্ব সাবেক ইউপি সদস্য তখলিছ আলী, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক উমরপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান চেরাগ আলীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এমন তথ্য।

সবার মুঠো ফোনে একই রকম হুশিয়ারী বার্তা রয়েছে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার।

বৃহস্পতিবার বিকেলেও থানায় থাকা অফিসিয়াল মুঠোফোন থেকে উল্লেখিত ব্যক্তিদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে এমন হুমকি প্রদান করেন তিনি। ওসির এমন দাম্ভিক, অশ্লীল এবং অশোভন আচরণ, ভয়ভীতি প্রদর্শনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের সিনিয়র নেতৃবৃন্দসহ ভূক্তভোগীরা ইতোমধ্যে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজির কাছে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানিয়েছেন। কাল নালিশি অভিযোগ ডিআইজি ও পুলিশ সুপারের কাছে জমা দেওয়ার প্রস্তুতিও চলছে।

লকডাউন চলাকালিন সময়ে পুলিশ কর্তৃক হয়ারানীর দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করার অভিযোগে পরবর্তীতে ওসির কাছে মাফ না চাওয়ায় তাকে আটক করে গুজব রটনাকারী সাজিয়ে মামলা দিয়ে কোর্টে চালান করে দেওয়া হয়। লকডাউন ও গণ পরিবহন বন্ধ থাকাকালিন সময়ে ঢাকা- সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগরের প্রবেশদ্বার শেরপুর টুলপ্লাজায় চেকপোস্ট বসিয়ে প্রতিটি গাড়িকে নানা কায়দায় চাঁদা আদায় ও সাধারণ চালকদের মারধরের বিষয়টি জানিয়েছেন ভূক্তভোগীসহ শেরপুর টোলপ্লাজা এলাকার একাধিক বাসিন্দারা। অন্যদিকে লকডাউন চালাকালে অবাধে জনসমাগম করার বিষয়ে উপজেলার সচেতন মহলের পক্ষ থেকে ওসিকে বিভিন্ন সময় অবগত করা হলেও ইউএনওর দোহাই দিয়ে তিনি অবগতকারীদের সঙ্গে অশালিন আচরণ করতেন বলে অনেকেই জানিয়েছেন।

এদিকে সরকার একাধিক শর্তে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দিলে ওসমানীনগরের কোথাও স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। এমনকি থানা কমপ্লেক্সের পাশের একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মধ্যরাত পর্যন্ত খোলা থাকতে দেখা যায়। ওসমানীনগরের প্রতিনিটা হাট-বাজারে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ করোনা ভীতি উপেক্ষা করে ইচ্ছে মতো চলাচল করলেও কোথাও পুলিশের ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না।

উপজেলার সিকন্দরপুর গ্রামের একাধিক ব্যক্তি, মধ্য এপ্রিলে লকডাউন চলাকালিন সময়ে ওসির শেল্টারে ঢাকার নারায়নগঞ্জ থেকে এক মহিলা সিকন্দরপুর গ্রামে আসলে গ্রামবাসী প্রতিবাদ জানান। বিষয়টি জানাজানির পর উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন ইউএনওর হস্তক্ষেপে মহিলাকে রাতের আধাঁরে অন্যত্র সরিয়ে নিলেও বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীসহ প্রতিবাদী লোকজনকে ধরে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেন ওসি রাশেদ মোবারক।

উপজেলার চাতলপার এলাকার এক সচেতন ব্যক্তি জানান, ‘সম্প্রতি ওসি রাশেদ মোবারক আমাদের এলাকায় আসলে উপস্থিত লোকজনের কথার প্রসঙ্গে তিনি সিলেটিদের নিয়ে ব্যঙ্গাত্বক শব্দ ব্যবহার করেছেন। কিছু দিন আগে ওসির শেল্টারে জোরপূর্বক জায়গা দখলের পায়তারায় উপজেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাজ্জাদকে ধরে নিয়ে আসার হুমকি দিয়েছেন বলে আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্ট লোকজন জানিয়েছেন।

একই অভিযোগ উপজেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইকবাল আহমদের। তিনি জানান, ‘বৃহস্পতিবার ওসি রাশেদ মোবারক অফিসিয়াল নাম্বার থেকে আমার ব্যাক্তিগত ফোনে কল করে বলেন, আমরা জানতে পেরেছি আপনার এলাকায় একটি সংঘাত হবে আর যদি তা হয় তাহলে আপনাকে প্রধান আসামি করে দড়ি দিয়ে বেঁধে টেনে হিচড়ে থানায় নিয়ে আসব’।

ওসির এমন দাম্ভিকতার বিষয়টি আমি তাৎক্ষনিক সিলেট জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতৃবৃন্দকে অবগত করার পাশাপাশি সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ও পুলিশ সুপারকে অবগত করে রেখেছি।

উমরপুর ইউনিয়নের সালিশ ব্যক্তিত্ব সাবেক ইউপি সদস্য তখলিছ মিয়া বলেন, ‌’বৃহস্পতিবার বিকালে থানার ওসি আমাকে ফোন দিয়ে আমার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর বলেন, আপনি সংঘাত সৃষ্টি করছেন আমার কাছে তথ্য রয়েছে। এ ব্যাপারে বেশি বাড়াবাড়ি করলে তিনি রশি দিয়ে বেঁধে আমাকে থানায় নিয়ে যাবেন বলে হুমকি প্রদান করে ফোনের লাইন কেটে দেন।’

উমরপুর ইউপি আওয়ামীলীগর সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা শহিদ পরিবারের সদস্য ষাটোর্ধ দবির মিয়া ওসির এমন উদ্ধতপূর্ন আচরণের বিষয়ে প্রতিবেদককে জানাতে গিয়ে কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার আমার মোবাইলে ওসি রাশেদ মোবারকের কল আসে। তিনি বলেন, আমরা গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পেরেছি আপনার এলাকায় কিছুদিনের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টি হবার সম্ভাবনা আছে। আর যদি তা হয়, তাহলে আপনাকে প্রধান আসামি করে উমরপুর থেকে রশি দিয়ে বেঁধে থানায় নিয়ে আসব। আমি ওসিকে আমার পরিচয় দিয়ে বলি আমি বায়োবৃদ্ধ মানুষ। আমার জানামতে এলাকায় কোনো সংঘাত নেই। আমার পরিচয় জানার পর তিনি ফোনের লাইন কেটে দেন।

উমরপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান চেরাগ আলী বলেন, আমি বৃদ্ধ হয়ে গেছি। কোনো প্রকার সমস্যাও নেই। বৃহস্পতিবার বিকেলে ওসি রাশেদ মোবারক আমার মোবাইল ফোনে ফোন দিয়ে জানান, আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে উমরপুর ইউনিয়নে আপনারা সংঘাতের সৃষ্টি করছেন। সংঘাত সৃষ্টি হলে আমি উমরপুরের সবাইকে বেঁধে থানায় নিয়ে আসব। প্রয়োজনে আপনাকেও রশি দিয়ে বেঁধে থানায় নিয়ে আসা হবে।

ওসমানীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আতাউর রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক আনা মিয়া বলেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতিসহ উপজেলা যুবলীগ সভাপতির কাছ থেকে ওসির এমন আচরণের বিষয়টি জেনে আমরা খুবই মর্মাহত হয়েছি। বিষয়টি নিয়ে আমরা পুলিশ সুপারসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের স্মরণাপন্ন হবো।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান চৌধুরী নাজলু বলেন, ওসি রাশেদ মোবারক থানায় যোগদানের পর থেকে তিনি বিচারপ্রার্থী লোকজনসহ সাধারণ মানুষের সঙ্গে খারাপ আচরণ করছেন বলে বিস্তর অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে আমরা পুলিশ সুপারসহ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষে সঙ্গে আলোচনা করেছি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে প্রয়োজনে সাধারণ মানুষদের সঙ্গে নিয়ে আমরা ওসিকে বয়কটের সামাজিক কর্মসূচি ঘোষণা দিব।

উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক অরুনোদয় পাল ঝলক বলেন, একজন ওসির কাছ থেকে এ ধরনের আচারণ খুবই দুঃখজনক। বিষয়টির জন্য দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ওসমানীনগরের ওসি রাশেদ মোবারক বলেন, কেউ শান্তি শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করলে তাকে ধমক দিতে পারি, কিন্তু রশি দিয়ে বেঁধে আনার অভিযোগ ভিত্তিহীন। তিনি কোনো নেতা নেত্রীর বিরুদ্ধে কখনোই কটুবাক্য উচ্চারণ করেননি বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ওসমানীনগর) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ হাতে পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।