ঢাকা , রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ওসমানীনগর বড় দিরারাই নামেই শুধু সরকারি বিদ্যালয়

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেটের সময় : ১১:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২০
  • / ৩৮৬ টাইম ভিউ

বিদ্যালয় বিহীন ১৫শ’ গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পের আওতায় ২০১২ সালে ওসমানীনগরের বড় দিরারাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপিত হয়। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে আছে সরকারিকরণ ফাইলটি। এখন পর্যন্ত কোন শিক্ষকই নিয়োগ দেওয়া হয়নি দেড়-শতাধিক শিক্ষার্থীর এ প্রতিষ্ঠানে। অভিবাবকরা বলছেন বিদ্যালয়টি শুধু নামেই সরকারি।
জানা যায়, উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের বৃহত্তর বড় দিরারাই গ্রামের প্রায় পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকায় অনেক শিশু শিক্ষা বঞ্চিত ছিল। অবশেষে সারাদেশে বিদ্যালয়বিহিন গ্রামে ১৫শ বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পের আওতায় এ গ্রামে বিদ্যালয় স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হয়। সরকারি নিয়মানুযায়ী বিদ্যালয়ের নামে জমি রেজিস্ট্রি করে দেয়ার পর এলজিইডি কর্তৃপক্ষের তত্বাবধানে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ২০১২ সালে বিদ্যালয়ে গভীর নলকূপ স্থাপন ও দ্বিতল ভবনের কাজ শুরু করে এলজিইডির অর্ন্তভূক্ত সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। বিদ্যালয়ে নলকূপ স্থাপনের পর দ্বিতল ভবনের নির্মাণ কাজও শুরু হয়। ভাবনের আংশিক কাজ সম্পন্নের পর একটি মামলা সংক্রান্ত জটিলতায় আটকে যায় নির্মাণ কাজ। ২০১৫ সালে উচ্চ আদালত মামলাটি নিস্পত্তি করে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আদেশ প্রদান করলেও ভবন বাস্তবায়ন হচ্ছে না।
এদিকে, ২০১৮ সালে তৎকালিন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজারের উদ্যোগে বিদ্যালয় বিহীন ১৫শ’ গ্রামে স্থাপিত বিদ্যালগুলোতে শিক্ষক পদায়ন হলেও এ বিদ্যালয়টি রয়ে গেছে বঞ্চিতের খাতায়।
বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়ন ও ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের কথা ভেবে স্থানীয়রা প্রবাসীদের সহযোগিতায় একটি ভবন নির্মাণ করে চারজন স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষকদের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে উপবৃত্তিসহ সার্বিক সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী।
বিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সালাম আক্তার ও সাবেক মেম্বার আহমদ আলী জানান, দিন দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে বিদ্যালয়টি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বার বার ধর্ণা দিয়েও কাজ হচ্ছে না।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুহেল আহমদ বলেন, আমরা নানা সংকটের মধ্যে দিয়ে বিদ্যালয়টির কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। নামে সরকারি থাকলেও পাঠদান ছাড়া সরকারি সবধরণের সুবিধা থেকে বিদ্যালয়টি বঞ্চিত রয়েছে। এছাড়া বিদ্যালয় আঙিনার একাধিক স্থানে সরকারি প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধিন অসম্পূর্ণ ভবনের ফাইলিংয়ের গর্ত থাকায় ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থী পাঠদান করতে হচ্ছে।
উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা দিলীপময় চৌধুরী বলেন, ওসমানীনগর একটি নতুন উপজেলা। বিগত এক বছর থেকে এ উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের কাজ চালু হয়েছে। আমরা এখনও এ বিদ্যালয় সরকারিকরণের কোনো কাগজপত্র পাইনি।
সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. বায়োজিদ খান বলেন, বড় দিরারাই প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৫শ বিদ্যালয়ের আওতায় নির্মিত এমন কোন তথ্য আমাদের কাছে নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে

পোস্ট শেয়ার করুন

ওসমানীনগর বড় দিরারাই নামেই শুধু সরকারি বিদ্যালয়

আপডেটের সময় : ১১:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২০

বিদ্যালয় বিহীন ১৫শ’ গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পের আওতায় ২০১২ সালে ওসমানীনগরের বড় দিরারাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপিত হয়। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে আছে সরকারিকরণ ফাইলটি। এখন পর্যন্ত কোন শিক্ষকই নিয়োগ দেওয়া হয়নি দেড়-শতাধিক শিক্ষার্থীর এ প্রতিষ্ঠানে। অভিবাবকরা বলছেন বিদ্যালয়টি শুধু নামেই সরকারি।
জানা যায়, উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের বৃহত্তর বড় দিরারাই গ্রামের প্রায় পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকায় অনেক শিশু শিক্ষা বঞ্চিত ছিল। অবশেষে সারাদেশে বিদ্যালয়বিহিন গ্রামে ১৫শ বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পের আওতায় এ গ্রামে বিদ্যালয় স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হয়। সরকারি নিয়মানুযায়ী বিদ্যালয়ের নামে জমি রেজিস্ট্রি করে দেয়ার পর এলজিইডি কর্তৃপক্ষের তত্বাবধানে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ২০১২ সালে বিদ্যালয়ে গভীর নলকূপ স্থাপন ও দ্বিতল ভবনের কাজ শুরু করে এলজিইডির অর্ন্তভূক্ত সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। বিদ্যালয়ে নলকূপ স্থাপনের পর দ্বিতল ভবনের নির্মাণ কাজও শুরু হয়। ভাবনের আংশিক কাজ সম্পন্নের পর একটি মামলা সংক্রান্ত জটিলতায় আটকে যায় নির্মাণ কাজ। ২০১৫ সালে উচ্চ আদালত মামলাটি নিস্পত্তি করে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আদেশ প্রদান করলেও ভবন বাস্তবায়ন হচ্ছে না।
এদিকে, ২০১৮ সালে তৎকালিন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজারের উদ্যোগে বিদ্যালয় বিহীন ১৫শ’ গ্রামে স্থাপিত বিদ্যালগুলোতে শিক্ষক পদায়ন হলেও এ বিদ্যালয়টি রয়ে গেছে বঞ্চিতের খাতায়।
বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়ন ও ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের কথা ভেবে স্থানীয়রা প্রবাসীদের সহযোগিতায় একটি ভবন নির্মাণ করে চারজন স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষকদের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে উপবৃত্তিসহ সার্বিক সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী।
বিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সালাম আক্তার ও সাবেক মেম্বার আহমদ আলী জানান, দিন দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে বিদ্যালয়টি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বার বার ধর্ণা দিয়েও কাজ হচ্ছে না।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুহেল আহমদ বলেন, আমরা নানা সংকটের মধ্যে দিয়ে বিদ্যালয়টির কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। নামে সরকারি থাকলেও পাঠদান ছাড়া সরকারি সবধরণের সুবিধা থেকে বিদ্যালয়টি বঞ্চিত রয়েছে। এছাড়া বিদ্যালয় আঙিনার একাধিক স্থানে সরকারি প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধিন অসম্পূর্ণ ভবনের ফাইলিংয়ের গর্ত থাকায় ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থী পাঠদান করতে হচ্ছে।
উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা দিলীপময় চৌধুরী বলেন, ওসমানীনগর একটি নতুন উপজেলা। বিগত এক বছর থেকে এ উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের কাজ চালু হয়েছে। আমরা এখনও এ বিদ্যালয় সরকারিকরণের কোনো কাগজপত্র পাইনি।
সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. বায়োজিদ খান বলেন, বড় দিরারাই প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৫শ বিদ্যালয়ের আওতায় নির্মিত এমন কোন তথ্য আমাদের কাছে নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে