ঢাকা , সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

এবারের নির্বাচন বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে?

দেশদিগন্ত নিউজ ডেক্সঃ
  • আপডেটের সময় : ০৬:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ জানুয়ারী ২০১৯
  • / ১০১৬ টাইম ভিউ

 দেশদিগন্ত নিউজ ডেক্সঃ  বাংলাদেশে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে এরই নানা মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

নির্বাচনে অনিয়ম এবং কারচুপির অসংখ্য অভিযোগ করছেন ভোটাররা। যদিও ক্ষমতাসীনরা বলছেন, এসব প্রশ্ন উঠার কোন সুযোগ নেই।

কিন্তু নির্বাচনের পর ব্রিটেনের ইকনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট যে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে, সেখানে গণতান্ত্রিক দেশের তালিকায় নেই বাংলাদেশ।

প্রশ্ন হচ্ছে, এবারের নির্বাচন বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে?

দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে যেসব অভিযোগ পাওয়া গেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্ষমতাসীনদের দ্বারা ভোটের আগের রাতেই বাক্স-ভর্তি করে রাখা, ভোটারদের কেন্দ্র যেতে নিষেধ করা এবং কেন্দ্র দখল করা।

২০১৪ সালে একটি একতরফা বিতর্কিত নির্বাচনের পর ২০১৮ সালে আরেকটি বিতর্কিত নির্বাচন।

এবারের নির্বাচনে যে চিত্র দেখা গেছে, সেটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে যে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে তাতে কোন সন্দেহ নেই।

এমনটাই মনে করছে দুর্নীতি বিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ।

সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, ” ভোটাররা ভোটাধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ পর্যাপ্ত পেয়েছে এটা বলা যাবে না। এ প্রশ্নটা থেকেই যাবে সবসময় যে সত্যিকার অর্থে এটা কতটা জন-প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার। যদি এ ধরনের নির্বাচনটা বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়, তাহলে গণতন্ত্রের জন্য এর চেয়ে বড় দু:সংবাদ আর কিছু হতে পারে না।”

_105216553_17b6e509-2f2e-4118-9562-5edd9a95e240

বাংলাদেশে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের ৫০টি আসনের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর এক পরি-বীক্ষণের ফলাফলে ৪৭টিতেই অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল।

১৯৯১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত নির্দলীয় সরকারের অধীনে যেসব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে সেখানে পরাজিত দল বরাবরই অভিযোগ তুললেও সাধারণভাবে সেসব নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা ছিল সবার কাছে।

কিন্তু ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর থেকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র উল্টো পথে হাঁটা শুরু করেছে কি না সে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।

সর্বশেষ নির্বাচনের পর এ প্রশ্ন আরো জোরালো রূপ নিয়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জোবাইদা নাসরিন মনে করেন, সর্বশেষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচনী ব্যবস্থার উপর সাধারণ মানুষের আস্থা উঠে যাবার দশা হয়েছে।

ফলে গণতন্ত্রের প্রথম শর্তই পূরণ করতে পারছে না বাংলাদেশ।

“আমার কাছে মনে হয় যে নির্বাচনের বদলে এখানে কার্যত হয়েছে সিলেকশন। এটা গণতন্ত্রের জন্য খুবই ক্ষতিকর। গণতন্ত্রের মৌলিক বিষয় হচ্ছে মানুষের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করা। এজন্য আমার কাছে মনে হয় যে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে দাবি করার জায়গাটি ক্রমশ সেখান থেকে দূরে সরে যাচ্ছে,” বলছিলেন জোবাইদা নাসরিন।

বাংলাদেশে কার্যকরী গণতন্ত্র আছে কি না এটি নিয়ে গত কয়েক বছরে বিভিন্ন পশ্চিমা মাধ্যমে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

২০১৮ সালের মার্চ মাসে জার্মান প্রতিষ্ঠান ‘বেরটেলসম্যান স্টিফটুং’ তাদের রিপোর্টে বলেছে বাংলাদেশ এখন স্বৈরশাসনের অধীন এবং সেখানে এখন গণতন্ত্রের নূন্যতম মানদণ্ড পর্যন্ত মানা হচ্ছে না।

সর্বশেষ নির্বাচনের পর যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইকনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ) যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সেখানে ‘গণতান্ত্রিক’ দেশের তালিকায় নেই বাংলাদেশ।

পোস্ট শেয়ার করুন

এবারের নির্বাচন বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে?

আপডেটের সময় : ০৬:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ জানুয়ারী ২০১৯

 দেশদিগন্ত নিউজ ডেক্সঃ  বাংলাদেশে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে এরই নানা মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

নির্বাচনে অনিয়ম এবং কারচুপির অসংখ্য অভিযোগ করছেন ভোটাররা। যদিও ক্ষমতাসীনরা বলছেন, এসব প্রশ্ন উঠার কোন সুযোগ নেই।

কিন্তু নির্বাচনের পর ব্রিটেনের ইকনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট যে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে, সেখানে গণতান্ত্রিক দেশের তালিকায় নেই বাংলাদেশ।

প্রশ্ন হচ্ছে, এবারের নির্বাচন বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে?

দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে যেসব অভিযোগ পাওয়া গেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্ষমতাসীনদের দ্বারা ভোটের আগের রাতেই বাক্স-ভর্তি করে রাখা, ভোটারদের কেন্দ্র যেতে নিষেধ করা এবং কেন্দ্র দখল করা।

২০১৪ সালে একটি একতরফা বিতর্কিত নির্বাচনের পর ২০১৮ সালে আরেকটি বিতর্কিত নির্বাচন।

এবারের নির্বাচনে যে চিত্র দেখা গেছে, সেটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে যে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে তাতে কোন সন্দেহ নেই।

এমনটাই মনে করছে দুর্নীতি বিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ।

সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, ” ভোটাররা ভোটাধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ পর্যাপ্ত পেয়েছে এটা বলা যাবে না। এ প্রশ্নটা থেকেই যাবে সবসময় যে সত্যিকার অর্থে এটা কতটা জন-প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার। যদি এ ধরনের নির্বাচনটা বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়, তাহলে গণতন্ত্রের জন্য এর চেয়ে বড় দু:সংবাদ আর কিছু হতে পারে না।”

_105216553_17b6e509-2f2e-4118-9562-5edd9a95e240

বাংলাদেশে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের ৫০টি আসনের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর এক পরি-বীক্ষণের ফলাফলে ৪৭টিতেই অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল।

১৯৯১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত নির্দলীয় সরকারের অধীনে যেসব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে সেখানে পরাজিত দল বরাবরই অভিযোগ তুললেও সাধারণভাবে সেসব নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা ছিল সবার কাছে।

কিন্তু ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর থেকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র উল্টো পথে হাঁটা শুরু করেছে কি না সে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।

সর্বশেষ নির্বাচনের পর এ প্রশ্ন আরো জোরালো রূপ নিয়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জোবাইদা নাসরিন মনে করেন, সর্বশেষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচনী ব্যবস্থার উপর সাধারণ মানুষের আস্থা উঠে যাবার দশা হয়েছে।

ফলে গণতন্ত্রের প্রথম শর্তই পূরণ করতে পারছে না বাংলাদেশ।

“আমার কাছে মনে হয় যে নির্বাচনের বদলে এখানে কার্যত হয়েছে সিলেকশন। এটা গণতন্ত্রের জন্য খুবই ক্ষতিকর। গণতন্ত্রের মৌলিক বিষয় হচ্ছে মানুষের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করা। এজন্য আমার কাছে মনে হয় যে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে দাবি করার জায়গাটি ক্রমশ সেখান থেকে দূরে সরে যাচ্ছে,” বলছিলেন জোবাইদা নাসরিন।

বাংলাদেশে কার্যকরী গণতন্ত্র আছে কি না এটি নিয়ে গত কয়েক বছরে বিভিন্ন পশ্চিমা মাধ্যমে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

২০১৮ সালের মার্চ মাসে জার্মান প্রতিষ্ঠান ‘বেরটেলসম্যান স্টিফটুং’ তাদের রিপোর্টে বলেছে বাংলাদেশ এখন স্বৈরশাসনের অধীন এবং সেখানে এখন গণতন্ত্রের নূন্যতম মানদণ্ড পর্যন্ত মানা হচ্ছে না।

সর্বশেষ নির্বাচনের পর যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইকনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ) যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সেখানে ‘গণতান্ত্রিক’ দেশের তালিকায় নেই বাংলাদেশ।