ঢাকা , রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আলোচিত সেই কুখ্যাত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা

দেশ দিগন্ত ডেক্স:
  • আপডেটের সময় : ১০:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২০
  • / ৫৭৯ টাইম ভিউ

কক্সবাজারের চকরিয়ায় মা-মেয়েকে রশি দিয়ে নির্যাতনের ঘটনায় হারবাং ইউপি চেয়ারম্যান মো. মিরানুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে ভুক্তভোগী পারভীন আক্তার চকরিয়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার আসামিরা হলেন- চকরিয়া উপজেলা হারবাং ইউপি চেয়ারম্যান মো. মিরানুল ইসলাম, হারবাং বৃন্দাবনখিল এলাকার জিয়াবুল হকের ছেলে নাছির উদ্দিন, মাহমুদুল হকের ছেলে নজরুল ইসলাম ও এমরান হোসেনের ছেলে জসিম উদ্দিন। এতে আরো ২০/২৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

এই মামলায় আইনি সহায়তা দিচ্ছেন ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস কমিশন।

মামলার এজাহারে বাদী পারভীন আক্তার উল্লেখ করেন, ২১ আগস্ট শুক্রবার একটি সিএনজি নিয়ে দুই মেয়ে, ছেলে ও তার বন্ধুকে নিয়ে চকরিয়ার ডুলাহাজারায় ছোট মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছিলাম। আমাদের সিএনজিটি হারবাং বৃন্দাবনখিল লাল ব্রিজ এলাকায় পৌঁছলে পেছন থেকে দুটি মোটরসাইকেলে ছয়জন লোক আমাদের পিছু নেয়। পরে চালক ভয় পেয়ে হারবাং স্টেশন থেকে পশ্চিম দিকে চলতে শুরু করেন।

এক পর্যায়ে মোটরসাইকেল আরোহী ছয়জনসহ আরো বেশ কয়েকজন আমাদের সিএনজিটি আটকে ফেলে।

আমাদের চিৎকারে এলাকার লোকজন এগিয়ে আসেন। এরই মধ্যে ধাওয়া করা লোকজন গরু চুরির অপবাদ দিয়ে আমাদের মারধর শুরু করে। এ সময় আসামিরা আমাদের কাছ থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা, স্বর্ণের কানের দুল ও গলার চেইন এবং চারটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে স্থানীয় লোকজনসহ আসামিরা আমাদের কোমরে রশি দিয়ে বেঁধে টেনে টেনে হারবাং ইউপি কার্যালয়ে নিয়ে যায়। ওখানে নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলাম দ্বিতীয় দফায় আবারো আমাদের গালিগালাজ করতে করতে প্রথমে চেয়ার দিয়ে এবং পরে একটি লাঠি দিয়ে মারতে থাকে। পরে পুলিশ আমাদের উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

ভুক্তভোগীদের আইনী সহায়তা দেয়া ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস কমিশনের সহকারি ডাইরেক্টর মো. শাহ পরাণ বলেন, এটি একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনা। এই ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। এজন্য আমাদের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তা দেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে একজন আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছি।

চকরিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শহিদুল্লাহ এই মামলাটি পরিচালনা করবেন বলেও তিনি জানান।

চকরিয়া থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান বলেন, হারবাংয়ে মা-মেয়েসহ পাঁচজনকে রশি দিয়ে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় ভুক্তভোগী পারভীন আক্তার বাদী হয়ে থানায় একটি এজাহার দেন। ওই এজাহারটি মামলা হিসেবে এন্ট্রি করা হয়েছে। এই মামলায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বর্তমানে তারা জেল হাজতে রয়েছেন। এই মামলার অন্যতম আসামি চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলামকে গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।

এ ঘটনায় গত রোববার স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা নেন চকরিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। মামলাটি চকরিয়া সার্কেলের সিনিয়র এএসপিকে সাত কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন বিচারক রাজিব কুমার দেব। একই ঘটনায় ডিসি ও চকরিয়ার ইউএনও’র কার্যালয় থেকে পৃথক দুইটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।#

পোস্ট শেয়ার করুন

আলোচিত সেই কুখ্যাত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেটের সময় : ১০:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২০

কক্সবাজারের চকরিয়ায় মা-মেয়েকে রশি দিয়ে নির্যাতনের ঘটনায় হারবাং ইউপি চেয়ারম্যান মো. মিরানুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে ভুক্তভোগী পারভীন আক্তার চকরিয়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার আসামিরা হলেন- চকরিয়া উপজেলা হারবাং ইউপি চেয়ারম্যান মো. মিরানুল ইসলাম, হারবাং বৃন্দাবনখিল এলাকার জিয়াবুল হকের ছেলে নাছির উদ্দিন, মাহমুদুল হকের ছেলে নজরুল ইসলাম ও এমরান হোসেনের ছেলে জসিম উদ্দিন। এতে আরো ২০/২৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

এই মামলায় আইনি সহায়তা দিচ্ছেন ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস কমিশন।

মামলার এজাহারে বাদী পারভীন আক্তার উল্লেখ করেন, ২১ আগস্ট শুক্রবার একটি সিএনজি নিয়ে দুই মেয়ে, ছেলে ও তার বন্ধুকে নিয়ে চকরিয়ার ডুলাহাজারায় ছোট মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছিলাম। আমাদের সিএনজিটি হারবাং বৃন্দাবনখিল লাল ব্রিজ এলাকায় পৌঁছলে পেছন থেকে দুটি মোটরসাইকেলে ছয়জন লোক আমাদের পিছু নেয়। পরে চালক ভয় পেয়ে হারবাং স্টেশন থেকে পশ্চিম দিকে চলতে শুরু করেন।

এক পর্যায়ে মোটরসাইকেল আরোহী ছয়জনসহ আরো বেশ কয়েকজন আমাদের সিএনজিটি আটকে ফেলে।

আমাদের চিৎকারে এলাকার লোকজন এগিয়ে আসেন। এরই মধ্যে ধাওয়া করা লোকজন গরু চুরির অপবাদ দিয়ে আমাদের মারধর শুরু করে। এ সময় আসামিরা আমাদের কাছ থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা, স্বর্ণের কানের দুল ও গলার চেইন এবং চারটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে স্থানীয় লোকজনসহ আসামিরা আমাদের কোমরে রশি দিয়ে বেঁধে টেনে টেনে হারবাং ইউপি কার্যালয়ে নিয়ে যায়। ওখানে নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলাম দ্বিতীয় দফায় আবারো আমাদের গালিগালাজ করতে করতে প্রথমে চেয়ার দিয়ে এবং পরে একটি লাঠি দিয়ে মারতে থাকে। পরে পুলিশ আমাদের উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

ভুক্তভোগীদের আইনী সহায়তা দেয়া ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস কমিশনের সহকারি ডাইরেক্টর মো. শাহ পরাণ বলেন, এটি একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনা। এই ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। এজন্য আমাদের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তা দেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে একজন আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছি।

চকরিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শহিদুল্লাহ এই মামলাটি পরিচালনা করবেন বলেও তিনি জানান।

চকরিয়া থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান বলেন, হারবাংয়ে মা-মেয়েসহ পাঁচজনকে রশি দিয়ে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় ভুক্তভোগী পারভীন আক্তার বাদী হয়ে থানায় একটি এজাহার দেন। ওই এজাহারটি মামলা হিসেবে এন্ট্রি করা হয়েছে। এই মামলায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বর্তমানে তারা জেল হাজতে রয়েছেন। এই মামলার অন্যতম আসামি চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলামকে গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।

এ ঘটনায় গত রোববার স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা নেন চকরিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। মামলাটি চকরিয়া সার্কেলের সিনিয়র এএসপিকে সাত কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন বিচারক রাজিব কুমার দেব। একই ঘটনায় ডিসি ও চকরিয়ার ইউএনও’র কার্যালয় থেকে পৃথক দুইটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।#