ঢাকা , শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪, ৪ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
আপডেট :
প্রিয়জনদের মানসিক রোগ যদি আপনজন বুঝতে না পারেন আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা ও অভিষেক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা করেছে পর্তুগাল আওয়ামীলীগ যেকোনো প্রচেষ্টা এককভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়: দুদক সচিব শ্রীমঙ্গলে দুটি চোরাই মোটরসাইকেল সহ মিল্টন কুমার আটক পর্তুগালের অভিবাসন আইনে ব্যাপক পরিবর্তন পর্তুগাল বিএনপি আহবায়ক কমিটির জুমে জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয় এমপি আনোয়ারুল আজিমকে হত্যার ঘটনায় আটক তিনজন , এতে বাংলাদেশী মানুষ জড়িত:স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকাস্থ ইরান দুতাবাসে রাইসির শোক বইয়ে মির্জা ফখরুলের স্বাক্ষর মুটো ফোনের আসক্তি দূর করবেন যেভাবে…

আমি গণফোরামের কেউ না, আমি আওয়ামী লীগের কর্মী আমাকে বহিষ্কার করার কি আছে: মনসুর

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেটের সময় : ১১:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মার্চ ২০১৯
  • / ১৫৭১ টাইম ভিউ

ঐক্যফ্রন্টের ধানের শীষ প্রতীকে জয়ী এমপি গণফোরাম থেকে সদ্য বহিষ্কৃত সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ বলেছেন, “আমি আজন্ম আওয়ামী লীগ, আওয়ামী লীগ কর্মী এবং বঙ্গবন্ধুর অনুসারী। এই কথা বার বার বলে আসছি আমি। আমার রাজনৈতিক আদর্শ ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’।”

তিনি বলেন, “১৯৭৫ পরবর্তী কঠিন সময়ে চার বছর ভারতের মেঘালয়ের পাহাড়ে দিনরাত কাটিয়েছি আমি। খেয়ে না খেয়ে, ঘুমিয়ে না ঘুমিয়ে শুধু বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ করেছি। নির্বাচনের আগেও আমি বলেছি, নির্বাচন করব ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধুর’। শুধু প্রতীকটা ছিল আমার ধানের শীষ। নির্বাচনী প্রচারণায় গায়ে মুজিব কোট যেমন ছিল এখনো তেমন আছে। নির্বাচনের সময় হাজার হাজার ভোটারের সামনে মাইকে বলেছি, আমি আওয়ামী লীগের কর্মী, আমার প্রতীক ধানের শীষ। অতএব আমার রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই।

একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ।গত বৃহস্পতিবার ঐতিহাসিক ৭ই মার্চে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন তিনি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে নির্বাচন করেন আওয়ামী লীগের সাবেক এই নেতা।

সুলতান মনসুর বলেন, “যে এলাকায় ধানের শীষের প্রার্থী কখনো তিন থেকে দুই নম্বরে আসতে পারেনি সে এলাকায় আমি শত প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে জয়ী হয়েছি। হাজার হাজার নেতাকর্মী আমার জন্য রাতের পর রাত বাড়িতে ঘুমাতে পারেননি। সেই নেতাকর্মীদের ইচ্ছা ছিল আমি শপথ নিই। তাই তাদের ইচ্ছায় আমি শপথ নিয়েছি।”

তিনি বলেন, “আমি গণফোরামের কেউ ছিলাম না, এখনো নেই। আমি আওয়ামী লীগের কর্মী। নির্বাচনের সময় একটি নিবন্ধিত দলের সদস্যপদ নিতে হয়। নির্বাচন করার স্বার্থে আমি আমার চিন্তার কাছাকাছি দল হিসেবে গণফোরাম থেকে সদস্যপদ নিয়েছিলাম। এটি শুধু নির্বাচনের কারণে এবং নিয়মরক্ষার জন্য করেছি। তারা আমাকে সে সুযোগ করে দেয়ায় আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। আমাকে বহিষ্কার করার কি আছে, আমি তো তাদের কেউ না, ছিলামও না। আমি জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার একজন প্রতিনিধি হিসেবে যুক্ত ছিলাম। দেশের মানুষ আমাকে যে পরিচয়ে এতকাল ধরে চেনে আসছে সে অনুযায়ী আমি জনগণের কথা বলার জন্য সংসদে এসেছি।”

সুলতান মনসুর আরও বলেন, “আমি রাজনীতি করি মানুষের স্বার্থে। আমার এলাকার একজন মানুষ দেখান, যে বলবে আমার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। রাজনীতি আমার নিজের জন্য নয়, মানুষের জন্য। মানুষ যা চায় আমি তা করেছি। আমি নির্বাচনের পর অনেক সময় নিয়েছি। সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের মতামত জেনেছি। সবাই একমত হয়ে বলেছে- আমি যেন সংসদে যাই, তাদের কথা বলি এবং এলাকার কথা বলি। জনতার রায়কে সম্মান দেখিয়ে সংসদে এসেছি আমি।”

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেন আওয়ামী লীগের সাবেক এই সাংগঠনিক সম্পাদক।

সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-২ আসনে নৌকার প্রার্থী বিকল্পধারার এমএম শাহীনকে পরাজিত করে জয়ী হন সুলতান মনসুর। নির্বাচনে ‘ভূমিধস’ বিজয়ের পর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নৌকার নির্বাচিত এমপিরা শপথগ্রহণ করলেও ঐক্যফ্রন্টের ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিতরা শপথ গ্রহণ করেননি। গণফোরাম থেকে প্রথমে তাদের দুই এমপি শপথ নিচ্ছেন বলে জানানো হলেও পরবর্তীতে ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকের পর শপথ না নেয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন।

এরই মধ্যে শোনা যাচ্ছিল সুলতান মনসুর ও সিলেট-২ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত গণফোরামের এমপি মোকাব্বির খান শপথ নিতে যাচ্ছেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে মোকাব্বির খান শপথ নেননি। ফলে একাই শপথ নিয়েছেন সুলতান মনসুর।

এরই জের ধরে বৃহস্পতিবার বিকেল দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং জনগণের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে গণফোরাম থেকে সুলতান মনসুরকে বহিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্যপদ থেকেও তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

এ ব্যাপারে সুলতান মনসুর বলেন, “ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে নির্বাচনে গেলেও আমি গণফোরামের কেউ নই, বিএনপিরও কেউ নই। তাদের সিদ্ধান্ত তারা নিয়েছে, আমার ভূমিকা আমি পালন করব।”

তিনি বলেন, “জনগণ আমাকে ভোট দিয়েছে। আমি জনগণের কথা, দাবি-দাওয়া তুলে ধরার জন্য সংসদে জোরালো ভূমিকা রাখার জন্য এসেছি। বাংলাদেশের মানুষ আমাকে যে পরিচয়ে এতকাল ধরে চেনে আসছে আজীবন সেভাবেই চিনবে। কোনো লোভ-লালসা এবং চক্রান্ত আমাকে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ থেকে দূরে রাখতে পারবে না।”

পোস্ট শেয়ার করুন

আমি গণফোরামের কেউ না, আমি আওয়ামী লীগের কর্মী আমাকে বহিষ্কার করার কি আছে: মনসুর

আপডেটের সময় : ১১:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মার্চ ২০১৯

ঐক্যফ্রন্টের ধানের শীষ প্রতীকে জয়ী এমপি গণফোরাম থেকে সদ্য বহিষ্কৃত সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ বলেছেন, “আমি আজন্ম আওয়ামী লীগ, আওয়ামী লীগ কর্মী এবং বঙ্গবন্ধুর অনুসারী। এই কথা বার বার বলে আসছি আমি। আমার রাজনৈতিক আদর্শ ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’।”

তিনি বলেন, “১৯৭৫ পরবর্তী কঠিন সময়ে চার বছর ভারতের মেঘালয়ের পাহাড়ে দিনরাত কাটিয়েছি আমি। খেয়ে না খেয়ে, ঘুমিয়ে না ঘুমিয়ে শুধু বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ করেছি। নির্বাচনের আগেও আমি বলেছি, নির্বাচন করব ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধুর’। শুধু প্রতীকটা ছিল আমার ধানের শীষ। নির্বাচনী প্রচারণায় গায়ে মুজিব কোট যেমন ছিল এখনো তেমন আছে। নির্বাচনের সময় হাজার হাজার ভোটারের সামনে মাইকে বলেছি, আমি আওয়ামী লীগের কর্মী, আমার প্রতীক ধানের শীষ। অতএব আমার রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই।

একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ।গত বৃহস্পতিবার ঐতিহাসিক ৭ই মার্চে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন তিনি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে নির্বাচন করেন আওয়ামী লীগের সাবেক এই নেতা।

সুলতান মনসুর বলেন, “যে এলাকায় ধানের শীষের প্রার্থী কখনো তিন থেকে দুই নম্বরে আসতে পারেনি সে এলাকায় আমি শত প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে জয়ী হয়েছি। হাজার হাজার নেতাকর্মী আমার জন্য রাতের পর রাত বাড়িতে ঘুমাতে পারেননি। সেই নেতাকর্মীদের ইচ্ছা ছিল আমি শপথ নিই। তাই তাদের ইচ্ছায় আমি শপথ নিয়েছি।”

তিনি বলেন, “আমি গণফোরামের কেউ ছিলাম না, এখনো নেই। আমি আওয়ামী লীগের কর্মী। নির্বাচনের সময় একটি নিবন্ধিত দলের সদস্যপদ নিতে হয়। নির্বাচন করার স্বার্থে আমি আমার চিন্তার কাছাকাছি দল হিসেবে গণফোরাম থেকে সদস্যপদ নিয়েছিলাম। এটি শুধু নির্বাচনের কারণে এবং নিয়মরক্ষার জন্য করেছি। তারা আমাকে সে সুযোগ করে দেয়ায় আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। আমাকে বহিষ্কার করার কি আছে, আমি তো তাদের কেউ না, ছিলামও না। আমি জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার একজন প্রতিনিধি হিসেবে যুক্ত ছিলাম। দেশের মানুষ আমাকে যে পরিচয়ে এতকাল ধরে চেনে আসছে সে অনুযায়ী আমি জনগণের কথা বলার জন্য সংসদে এসেছি।”

সুলতান মনসুর আরও বলেন, “আমি রাজনীতি করি মানুষের স্বার্থে। আমার এলাকার একজন মানুষ দেখান, যে বলবে আমার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। রাজনীতি আমার নিজের জন্য নয়, মানুষের জন্য। মানুষ যা চায় আমি তা করেছি। আমি নির্বাচনের পর অনেক সময় নিয়েছি। সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের মতামত জেনেছি। সবাই একমত হয়ে বলেছে- আমি যেন সংসদে যাই, তাদের কথা বলি এবং এলাকার কথা বলি। জনতার রায়কে সম্মান দেখিয়ে সংসদে এসেছি আমি।”

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেন আওয়ামী লীগের সাবেক এই সাংগঠনিক সম্পাদক।

সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-২ আসনে নৌকার প্রার্থী বিকল্পধারার এমএম শাহীনকে পরাজিত করে জয়ী হন সুলতান মনসুর। নির্বাচনে ‘ভূমিধস’ বিজয়ের পর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নৌকার নির্বাচিত এমপিরা শপথগ্রহণ করলেও ঐক্যফ্রন্টের ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিতরা শপথ গ্রহণ করেননি। গণফোরাম থেকে প্রথমে তাদের দুই এমপি শপথ নিচ্ছেন বলে জানানো হলেও পরবর্তীতে ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকের পর শপথ না নেয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন।

এরই মধ্যে শোনা যাচ্ছিল সুলতান মনসুর ও সিলেট-২ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত গণফোরামের এমপি মোকাব্বির খান শপথ নিতে যাচ্ছেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে মোকাব্বির খান শপথ নেননি। ফলে একাই শপথ নিয়েছেন সুলতান মনসুর।

এরই জের ধরে বৃহস্পতিবার বিকেল দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং জনগণের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে গণফোরাম থেকে সুলতান মনসুরকে বহিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্যপদ থেকেও তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

এ ব্যাপারে সুলতান মনসুর বলেন, “ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে নির্বাচনে গেলেও আমি গণফোরামের কেউ নই, বিএনপিরও কেউ নই। তাদের সিদ্ধান্ত তারা নিয়েছে, আমার ভূমিকা আমি পালন করব।”

তিনি বলেন, “জনগণ আমাকে ভোট দিয়েছে। আমি জনগণের কথা, দাবি-দাওয়া তুলে ধরার জন্য সংসদে জোরালো ভূমিকা রাখার জন্য এসেছি। বাংলাদেশের মানুষ আমাকে যে পরিচয়ে এতকাল ধরে চেনে আসছে আজীবন সেভাবেই চিনবে। কোনো লোভ-লালসা এবং চক্রান্ত আমাকে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ থেকে দূরে রাখতে পারবে না।”