আপডেট

x


আজ ওয়ানডেতে বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে প্রোটিয়ারা

রবিবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৭ | ১:৪৮ অপরাহ্ণ | 761 বার

আজ ওয়ানডেতে বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে প্রোটিয়ারা

টেস্টের ব্যর্থতা ভুলে আজ নতুন মিশন নিয়ে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে আজ লড়াই করবে বাংলাদেশ। কিম্বারলিতে বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টায় ম্যাচটি শুরু হবে।

ওয়ানডে সিরিজের আগে টেস্ট ও একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশকে হারানোর পরও ওয়ানডেতে মাশরাফিদের কঠিন প্রতিপক্ষ মানছে প্রোটিয়া অধিনায়ক। ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশকে ভয়ঙ্কর প্রতিপক্ষ বলে আখ্যা দিয়েছেন ডু প্লেসিস।



এদিকে অভিজ্ঞদের দলে পেয়ে নতুন উদ্যোমে আজ মাঠে নামবে বাংলাদেশ। মাশরাফি বিন মর্তুজা, তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদুল্লাহকে দিয়ে গড়া বাংলাদেশ দল আজ আত্মবিশাস নিয়েই মাঠে নামবে।

তবে ম্যাচের আগে আগে বাংলাদেশের দুশ্চিন্তার কারণ হয়েছে কিম্বার্লির বাতাস। এই ম্যাচের ভেন্যু কিম্বার্লিতে ঋতু অনুযায়ী যে বাতাস বইছে, তার সাথে অভ্যস্ত নন বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা। আর এই তীব্র বাতাসে খেলার সময় সমস্যা দেখা দেয় কি না, সেটাই এখন বড় দুশ্চিন্তা। তা প্রকাশ পেয়েছে ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে। অধিনায়ক মাশরাফি মর্তুজা বলেন, ‘বাতাসে ঝামেলা আছে। একপাশে একটু খোলা তো। এর সাথে মানিয়ে নিতে হবে।’

কিম্বার্লির ডায়মন্ড ওভাল স্টেডিয়ামের অবস্থান শহর থেকে বেশ দূরে। খোলামেলা জায়গায় অবস্থিত স্টেডিয়ামটির আশেপাশে নেই কোনো স্থাপনা। মাঠে গ্যালারির অভাব, ফলে বাতাস চলাচলের সুযোগ প্রচুর। এই ব্যাপারটিই সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের জন্য।

এই মাঠে ২০১৩ সালের পর কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেনি স্বাগতিক দল। যদিও ঘরোয়া ক্রিকেটের আয়োজন ভেন্যুটিতে হচ্ছে নিয়মিতই। ফাফ ডু প্লেসিসের দল তাই কিছুটা হলেও অভিজ্ঞতা রাখে মাঠটি সম্পর্কে।

অপরদিকে সংবাদ সম্মেলনে প্রোটিয়া অধিনায়ক ডু প্লেসিস বলেন বাতাসের সুবিধা কাজে লাগানোর কথা, ‘বাতাস দুই দলের কারোর জন্যই ভালো কিছু নয়। তবে আমাদের এর সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। অধিনায়ক হিসেবে কৌশলগত দিক থেকে বাতাসকে কিভাবে ব্যবহার করবো তা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাটিং-বোলিং দুই ক্ষেত্রেই বাতাসকে আপনার সুবিধায় কাজে লাগাতে পারেন। আমার মনে হয়, কাল এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হবে।’

প্রতিপক্ষ বাংলাদেশের ব্যাপারে ডু প্লেসিস বলেন, ‘আমি মনে করি সাদা বলের ক্রিকেটে বাংলাদেশ প্রমাণ করেছে যে তারা নিজেদের দেশের বাইরেও ভালো করতে পারে। সম্প্রতি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে তারা সেমিফাইনাল পর্যন্ত খেলেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ঘরের বাইরে টেস্ট ক্রিকেটে তাদের রেকর্ড সম্পূর্ণ ভিন্ন। কিন্তু সাদা বলের ক্রিকেটে তারা ভয়ঙ্কর প্রতিপক্ষ, বিশেষ করে একদিনের ক্রিকেটে, সেটি তারা প্রমাণ করেছে। তাই, আমাদের জন্য টেস্ট ম্যাচের জয় দুটি বেশ ভালো ছিল এবং আমরা তাদের উপর প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছি। কিন্তু ওয়ানডে সিরিজে আমরা সম্পূর্ণ ভিন্ন চ্যালেঞ্জ প্রত্যাশা করছি।’

২০১৫ সালে বাংলাদেশ সফরকালে স্বাগতিকদের কাছে ওয়ানডে সিরিজ খুইয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। এরপর দুই বছর কেটে গেলেও এখনও শুকায়নি ওই ক্ষতের দাগ। দক্ষিণ আফ্রিকা সফররত বাংলাদেশ দল প্রোটিয়াদের বিপক্ষে এখনও সুবিধা করতে না পারলেও জ্বলে উঠতে পারে যেকোনো সময়েই।

আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ
টেস্টের ব্যর্থতা ভুলতেই শুধু নয়, ওয়ানডে ক্রিকেটে একটু অন্যরকম বাংলাদেশ। আইসিসির দ্বিতীয় মেগা আসর আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। সে আসরের সেমিফাইনালে খেলেছে বাংলাদেশ। বিশ্বের সেরা বেশ ক’টা দেশকে পেছনে ফেলে ওই লক্ষ্যে পৌঁছেছিল টিম বাংলাদেশ। ফলে ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশ অন্য এক দল। যেখানে টেস্ট ক্রিকেটের পারফরম্যান্সের সাথে কোনোভাবেই মিলবে না। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যে পারফরম্যান্স করেছে মুশফিকরা। অবশ্য টেস্টে সিনিয়র খেলোয়াড়দের সংখ্যা ছিল কম। ওয়ানডেতে ফিরেছেন মাশরাফি বিন মর্তুজা ও সাকিব আল হাসান। ইনজুরির জন্য তামিমও খেলতে পারেননি টেস্ট ম্যাচ। ওয়ানডেতে নিয়মিত খেলবেন তামিম। এটা ঠিক ওয়ানডে ক্রিকেটে বিশেষ করে মাশরাফি ও সাকিব ফেরাতে উজ্জীবিত টিম বাংলাদেশ।

এটাও ঠিক ওয়ানডেতে প্রোটিয়া দলে ফিরেছে বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান এবি ডি ভিলিয়ার্স। এতে স্বাগতিকদের শক্তি আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। ফিরেছেন অভিজ্ঞ জেপি ডুমিনিও। ওয়ানডে ক্রিকেটে এখনো ডুমিনি দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান হিসেবেই নিজেকে ধরে রেখেছেন। সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি ওয়ানডেতে বাংলাদেশ দারুণভাবে নিজেদের প্রমাণ করেছে। জুনে ইংল্যান্ডের আইসিসি চ্যাম্পিয়নস লিগে বাংলাদেশ সেমিফাইনালে খেললেও দক্ষিণ আফ্রিকা গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। ২০১৫ সালে হোমে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ ২-১ এ জয় করে বাংলাদেশ। কিন্তু সবকিছুর পরেও আজ থেকে শুরু হওয়া ওয়ানডে সিরিজে স্বাগতিকরাই ফেবারিট হিসেবে মাঠে নামবে।

বাংলাদেশের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকা এ পর্যন্ত ১৭টি ওয়ানডের মধ্যে ১৪টিতেই জয়লাভ করেছে। এ ছাড়াও নিজেদের মাঠে শেষ ছয়টি ম্যাচেও বেশ বড় ব্যবধানেই জয়ী হয়েছে তারা। ওয়ানডে সিরিজের আগে ব্লুমফন্টেইনে অনুষ্ঠিত অনুশীলন ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা একাদশের কাছে ৬ উইকেটে পরাজিত হয়েছে সফরকারী বাংলাদেশ। ম্যাচটিতে সাকিব সর্বোচ্চ ৬৮ রান করেন। দলে আরেকটি হাফ সেঞ্চুরি হয়। সেটা করেছিলেন সাব্বির। দলের অন্য ব্যাটসম্যানেরা সুবিধা করতে পারেননি। বিশেষ করে দলের টপ অর্ডার। সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েসরা ব্যর্থ। বোলাররাও সুবিধা করতে পারেনি ওই ম্যাচে।

এ দিকে দক্ষিণ আফ্রিকার এটা নতুন মিশন। বিশেষ করে আগামী ২০১৯ বিশ্বকাপের আগে নতুন মিশন শুরু তাদের। নতুন কোচ ওটিস গিবসন। নতুন অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিসেরও ওই বিশ্বকাপ পর্যন্ত মেয়াদ। ফলে সবার কাছে বাংলাদেশের বিপক্ষে এই সিরিজটি ২০১৯ বিশ্বকাপ প্রস্তুতির প্রথম ধাপ। ওয়ানডে অধিনায়ক ছিলেন ডি ভিলিয়ার্স। নতুন অধিনায়ক যাতে তার নতুন ভিশন নিয়ে এগোতে পারেন সে জন্যই এ সময় দেয়া ডু প্লেসিসকে। ঠিক নতুন কোচ ওটিস গিবসনের বেলায়ও একই কথা। টার্গেট ২০১৯ বিশ্বকাপ।

ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান গিবসন জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের আগে দুই বছর বেশ কিছু খেলোয়াড়কে সুযোগ দিয়ে তাদের যথার্থতা যাচাই করা হবে। তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার সংমিশ্রণে যারা ভালো পারফরম্যান্স করবেন তাদেরই তিনি বিশ্বকাপ স্কোয়াডের জন্য নির্বাচিত করতে সুপারিশ করবেন। বাংলাদেশ দল যদিও ঘোষণা দেয়নি অমন কিছুর। তবু হাতুরাসিংহেরও মাথায় ২০১৯ বিশ্বকাপ। বিশেষ করে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভালো রেজাল্টের পর আরো সুসংগঠিত হতে যা যা প্রয়োজন সেটাই করছেন তিনি। বিসিবিও এতে সায় দিচ্ছেন।

এ সিরিজে নতুন এক পেস বোলারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সাইফুদ্দিন, তাসকিন, রুবেলরা থাকলেও মাশরাফির পেস স্কোয়াডে সাইফুদ্দিন বিশেষ করে প্রোটিয়া কন্ডিশনে কী করবেন সেটা দেখারও প্রত্যাশা। ব্যাটিংয়েও দুর্বলতা যাচ্ছে বেশ কিছুদিন থেকেই। বিশেষ করে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারেরা ছাড়া তরুণরা সেভাবে পারছেন না নিজেদের মেলে ধরতে। এটা বড় একটা সমস্যা। তবে হাতুরাসিংহে, কোর্টনি ওয়ালশ মিলে চেষ্টা করে যাচ্ছেন তাদের আপডেট করতে। এ সিরিজও সবার জন্য খুবই চ্যালেঞ্জিং। পারফরম্যান্স না করলে দলে থাকা কষ্টকর হবে এটা তারা জানেন। ফলে কঠোর পরিশ্রম করছেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, নাসির হোসেন, সাব্বির রহমান রুম্মন, সৌম্য সরকার ও ইমরুল কায়েসরা।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

deshdiganto.com © 2019 কপিরাইট এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত

design and development by : http://webnewsdesign.com